কবিদের বিপদে কবিদের জন্য একটি সঞ্চয়ী ফান্ড থাকলে কেমন হয়?
আর এটাই হয়তো একদিন অসহায় কবিদের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তবসম্মত একটি উপায় হতে পারে।
কবিদের লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি- এগুলি হলো মানব সভ্যতার হৃদয়ের গোপন ও বাস্তব অনুভূতির ভাষা। সমাজের আনন্দ, বেদনা, অন্যায়, প্রতিবাদ এবং স্বপ্ন- সবকিছুরই গভীরতম প্রকাশ ঘটে কবিদের কলমে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য এটাই যে, যেসব কবিগণ বিশ্ব সমাজের জন্য অনুভূতি নিয়ে লিখেছেন, তারাই আজকাল জীবনের কঠিন বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তাই আজ এই বিষয় নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। শুরুতেই বিশ্বের সকল কবিদের কাছে আমার একটাই প্রশ্ন-
“ভুক্তভোগী কবিদের বিপদের দিনে, কবিদের জন্য কি এমন একটি স্থায়ী সঞ্চয়ী ফান্ড থাকা উচিত নয়? যেখানে সামর্থ্যবান কবিগণ প্রতি মাসে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য কিছু অর্থ জমা করে রাখতে পারবেন?”
কেননা, অনেক কবি’রাই জীবনের পুরো সময়টা সাহিত্যচর্চায় ব্যয় করেছেন। দেশ, মানবতা ও সমাজের মঙ্গলের জন্য কলম চালিয়েছেন। কিন্তু এখানে কবিতা, গল্প, উপন্যাস- এগুলো শুধু তাদের পেশা ছিল না, বরং এগুলি ছিল তাদের আত্মিক সাধনা। তাই জীবনের এক পর্যায়ে এসে তাঁরা নানা সংকটে পড়েন।
বিশ্বের অসংখ্য কবিদেরই কোনো ধরনের স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। তাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে কর্মক্ষমতা কমে গেলে তাদের আর্থিক সমস্যা বাড়তে থাকে।
কবি’রা হলেন সংবেদনশীল মানুষ। সমাজের কষ্ট, অন্যায় ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাঁদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ অনেক সময় মানসিক ভারসাম্য পর্যন্তও নষ্ট করে দেয়।
এমতাবস্থায় লেখালেখির পাশাপাশি বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিশ্বের অনেক কবি’রাই স্ট্রোক, হৃদরোগ, পক্ষাঘাতসহ নানা ধরনের গুরুতর রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসা ব্যয় বহন করার মতোও সামর্থ্য তাদের অনেকেরই থাকে না।
যারা কিনা পুরো জীবনটাই সমাজের জন্য লিখে গেছেন, বিপদের সময় সেই সমাজই তাদের ভুলে যায়। বিনিময়ে তাঁরা সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাবার তো দূরের কথা, অনেক সময় কাছের বিত্তশালী কবি’রাও তাদের খোঁজখবর নেন না।
এমন পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বিশ্বের সকল কবিদের জন্য একটি মাসিক সঞ্চয়ী ফান্ড হতে পারে এসবের বাস্তবসম্মত সমাধান।
যেমন,
• দেশ ও বিশ্বের সকল কবিগণ প্রতি মাসে ১০ টাকা হতে ১০০০ টাকা পর্যন্ত- অর্থাৎ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করবেন।
• এবং জমাকৃত সেই অর্থ একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত থাকবে।
• কোনো একসময় ফান্ডের পরিমাণ বড় হলে তা কোনো নিরাপদ ও বৈধ ব্যবসা বা বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে।
• এবং সেই ব্যবসা বা বিনিয়োগ থেকে যেটুকুই মুনাফা আসবে, তা পুনরায় ফান্ডে আবার যুক্ত করা হবে।
এভাবে ধীরে ধীরে এটি একটি শক্তিশালী তহবিল তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অসহায় কবিদের ক্ষেত্রে তাদের আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
আর এই ফান্ড থেকেই যেসব ধরনের সহায়তা দেওয়া হতে পারে তার কিছু বর্ণনা নিম্নে তুলে ধরা হলো। যেমন,
০১. অসুস্থ কবিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান।
০২. দুর্ঘটনা বা হঠাৎ বিপদে জরুরি সাহায্য প্রদান।
০৩. প্রবীণ ও অসহায় কবিদের জন্য মাসিক ভাতা প্রদান।
০৪. প্রয়াত কবিদের পরিবারের জন্য এককালীন সহায়তা প্রদান।
০৫. মানসিকভাবে অসুস্থ কবিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সহায়তা প্রদান।
এতে একসময় বিশ্বের সকল কবিদের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হতে পারে।
তবে, এই উদ্যোগটি সফলতার গোড়ায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমাদের কিছু লক্ষ্যও থাকতে হবে, তা হলো-
• স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলা।
• নিরপেক্ষ একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করা।
• প্রতিদিনের হিসাব নিয়মিত প্রকাশ করা।
• সকল সদস্যকে ফান্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত রাখা।
অতএব, এভাবে পরিচালিত হলে এই ফান্ড একদিন এটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
তাই সকলের উদ্দেশ্যে শেষে আমি এটুকুই বলবো-
কবি’রা শুধু শব্দের কারিগরই নন, তাঁরা হলেন বিশ্ব সমাজের বিবেক। সেই বিবেকটাই যদি বিপদের দিনে অসহায় হয়ে পড়েন, তবে তখন তা পুরো বিশ্ব সমাজের জন্যই লজ্জার বিষয়।
তাই আসুন, আমরা সকল কবি’রাই কবি’দের জন্য একটি সহমর্মিতার সেতু তৈরি করার প্রস্তুতি নিই। যেমন, আমাদের ছোট্ট এই মাসিক সঞ্চয় থেকেই কোনো একদিন গড়ে উঠতে পারে বিশ্বের সকল অসহায় কবিদের জন্য শেষ আশ্রয়।
তাই এ ব্যাপারে আমি আপনাদের সকলের নিকট নিম্নে কিছু প্রশ্নও রেখে গেলাম….
👉 আপনারা কি মনে করেন কবিদের জন্য এমন একটি মাসিক সঞ্চয়ী ফান্ড গঠন করা প্রয়োজন?
👉 আপনারা কি এই উদ্যোগটির সাথে একমত?
👉আপনারা কি এই উদ্যোগটির ভালো বা খারাপ কোনো দিক দেখছেন?
👉 আপনাদের মতে এই ফান্ডটিকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যেতে পারে?
এ বিষয়ে আপনাদের সকলের মূল্যবান মতামতটি নির্দ্বিধায় কমেন্ট বক্সে প্রকাশ করতে পারেন। আশা করি সকল কবি’দের অংশগ্রহণে এই আলোচনা সমৃদ্ধ হতে পারে।
রচনাকাল: ১৫-০৩-২০২৬ ইং।
মন্তব্য করুন