প্রান্তর-পটে নীহার-ধূলির আবিরে ভেসে উঠেছে অরুণাভ মেঘপুঞ্জ,
নভের নির্জন গঙ্গায় ঝরছে তারালোকের মৃদু তমসা-বিন্দু।
কেতকী-গন্ধে মাতাল সমীরণ, আকাশের গোপন গোপালিকা যেন
বীণার সুরে জড়ায়ে লীলায়িত স্বপ্নসৌধে ঘুমায়।
চন্দ্র-তৃতীয়ার রূপালী নৌকায় নক্ষত্র-রাণী চড়ে ভাসছে
বিষ্ণুপদে-নিশার মহাজলধিতে।
নীলিমা-বল্লরী আঁকড়ে রাখে তাহার অবগুণ্ঠিত গাত্র,
তিমিরের আবরণে জড়ানো ‘গৌরী-গাত্রিকা’ যেন জ্বলে দীপ্তিময় মায়াবলে।
উত্তর-দিকের সপ্তর্ষি-মণ্ডলে, অম্বর-প্রীতির পুত্রী বিশ্রাম নেয়;
লীলায়িত ছায়া এসে তাহার কেশে পরায় কুহেলি-পাঁপড়ির মালা।
নিশীথের শ্বাসে কাঁপে গোধূলি-রঙা নিবিড় বৃক্ষগুচ্ছ,
মেঘ-মশারির অন্তরে মিশে থাকে গূঢ় আলোক-তরঙ্গ।
আকাশের অন্তঃপুরে এক অদৃশ্য প্রহরী ‘কালানিধি’,
তিমির-বসনে পদচারণায় জাগে মহাশূন্যে।
তাহার দৃষ্টি ছোঁয় উল্কার ধাতব-শিখা, দীপ্তি জাগায় তারালয়ে।
বিরহের নিশান যেন টাঙানো কোনো অনন্ত উপকূলে।
তাহাদের সখীরা, যাহাদের নাম মেঘবীণা, তাহারা আজ
উপবনপ্রান্তে লুকাচ্ছে, হাসির ঢেউ তোলে ঝোপ-তৃণে,
কণ্ঠে বাজে রসাল কুহক।
পদ্ম-মধুরে চুম্বিত বায়ু যখন দোলে, বধূ-চন্দ্রিকা হাসে শিশির-কণার আভায়।
নীল-কপোত চোখে জেগে ওঠে এক বেপরোয়া দেবী,
তাহার অধর-রক্তে মিশে আছে নক্ষত্রের সুবাস।
সখী-বিহঙ্গ শিহরে উঠে বলে, ‘চোখ গেল, দেখো ঐ উজ্জ্বল রাণী!’
তাহার হাসি ছুঁয়ে যায় স্ফটিক-রাত্রির মর্ম।
মঙ্গলতারা জ্বালায় অরূণ দীপ, দিগন্তে রাখে প্রহরার ছায়া;
ঝিকিমিকি আলোর নীড়ে মনেহয় যেন নীরবে বধূর অন্তঃশ্বাস জেগেছে।
অথচ কালপুরুষ আজও নক্ষত্র-দ্বারে অবিচল,
তাহার ছায়া ছুঁয়ে যায় নীহার-নিবিড় কল্পলোকে।
তিমিরের অন্তরালে এক সাকী দাঁড়ায় নিস্তব্ধে,
তাহার হাতে ধরা চাঁদের ‘মদিরা-সসার’-
যাহাতে কলঙ্কফুল ভাসে ধোঁয়াশার মতো নরম আলোকধারা।
যেন সে আঁকছে অধীর অসীম তাহারই প্রেমের স্মৃতি,
আঁকে আবার বারবার মুছে ফেলে, যেন তা সময়ের স্রোতে বিলীন হয়ে যায়।
আমারও হৃদয়ের কপাটে তখনি কাঁপে কলঙ্ক-পাপড়ির নরম ছায়া,
প্রেম-বিরহে ডুবে যাওয়া সেই পেয়ালা-কোণে লিখি নাম,
যাহার অক্ষর আজও ঝরে নক্ষত্রবৃষ্টি হয়ে।
রচনাকালঃ ১০-১১-২০২৫ইং।
মন্তব্য করুন