চৈত্রের সোনালী সকালে
জেগে ওঠে প্রান্তর,
শালবনে ফুটে রয় ডালে
রাঙা শিমুলচর।
লাল রঙা পলাশ ফোটে
ভোরের হাওয়ায়,
আনন্দে কোকিল ডাকে
স্রষ্টার মহিমায়।
মধুর সুগন্ধে ছুটে আসা
মৌমাছি সব ফুলে,
মৃদু বাতাসে কামিনী-শাখা
দোল দেয় হেলে।
টলমলে নদীর কূলে
ছায়া করে নাচ,
আলো-ছায়ার মায়াজালে
বালুকাবেলার আঁচ।
ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলিতে
ঘুমিয়ে পড়ে মাঝি,
জ্যোৎস্না-ঝরা সারারাতে
চলে স্বপ্নের বাজি।
ওপাড়ের বাঁশ-বনেতে
বাঁশির সুর বাজে,
সেই সুর ভাসায় সাধে
হাওয়ারি তেজে।
সুমধুর সুর বয়ে চলে
সারা গাঁও পেরিয়ে,
শান্ত গাঁয়ের পথ ভুলে
শুনি খানিক দাঁড়িয়ে।
জানালার শিক ধরে
কিশোরি রয় চেয়ে,
খুঁজে পায় বাঁশির সুরে
সান্ত্বনার ছোঁয়া সে।
সে যেন কোনো পথচারী
নীরবতার বুকে,
আলোক-তরীতে রুপালি
চাঁদ জাগে লুকে।
সেই তরী ভাসে চুপিচুপি
ঘুমন্ত এই ভূবনে,
হঠাৎ রাতের শশী রাণী
উঁকি দেয় গগনে।
আঁধার শেষে আলো হাসে
অসংখ্য পাখির ডাকে,
তরী তখন ফিরিয়া আসে
সবুজ ধরার বাঁকে।
পাখির ডাকে ভোর হলে
জেগে ওঠে প্রাণ,
ধানের শীষ রোদে জ্বলে
ছড়ায় মুগ্ধ ঘ্রাণ।
আলসে শিশির ছুঁয়ে
পায়ে হেঁটে চাষা,
মহানন্দে নেমে ভূঁইয়ে
হাল চষে ভাসা।
শিমুল গাছে বসে মেলা
শালিক ডাকে সুরে,
রুপালি রোদে পথচলা
শিশুদের মন ভরে।
পুকুরপাড়ে জলতরু
ছায়া ফেলে নিচে,
দুধকুমারী ধবল গরু
মাতাল তৃণ-শীষে।
মাঠের পাশে কুঁড়ে-ঘরে
ধোঁয়া ওড়ে ধীরে,
পুড়ে যাওয়া ভাতের গন্ধে
মন ছুঁয়ে যায় ঘিরে।
গুনগুনে গান গায় রমণী
কাজের ফাঁকে বসে,
আলতা রঙা পায়ের ধ্বনি
ছন্দে ছন্দে হাসে।
রচনাকাল: ১৪-০২-২০২৬ ইং।
মন্তব্য করুন