রেনির অল ব্ল্যাকস কি পারবে স্প্রিংবকদের আধিপত্য থামাতে? WXV গ্লোবাল সিরিজের ম্যাচ অফিসিয়ালদের নাম ঘোষণা করলো ওয়ার্ল্ড রাগবি গলফ জিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের খোঁচা ট্রাম্পের, বললেন ‘এটাই ট্যালেন্ট’ অবহেলার কালো চাদর নারী পুরুষের ধৈর্য পেপারওয়েট গোলাপী রঙের বাস সময়ের অহংকার বর্ণমালার ভাঁজে ধুলো মাখা পৃথিবীর প্রেম
LIVE
ই-পেপার
চিঠি

খোকার নিকট পাঠানো মায়ের চিঠি

লেখক: শামীম নিমু

প্রকাশ: 18 August, 2026, 03:47 AM

প্রিয় খোকা,
তোর জীবনের প্রতিটি কদমে কদমে প্রথমে আমার দোয়া ও আশীর্বাদ নিস।

খোকা, তুই কেমন আছিস?
এখন কী করছিস রে খোকা?
খেয়েছিস কিছু?
কোথায় আছিস এখন?
কাজকর্মগুলো ঠিকমতো করছিস তো? নাকি শুধু বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময়গুলো অনায়াসে অপচয় করছিস?

তোর কি সেই আগের মতো জ্বরটা এখনো আসে রে খোকা? জ্বর হলে ওখানেও কেউ কি আমার মতো তোর মাথায় পানি ঢেলে দেয়? ওষুধগুলো ঠিকমতো খাচ্ছিস তো? তুই তো আবার বাসি খাবার কখনো খাসনি! সেই অভ্যেসটা এখনো আছে তোর?

শোন খোকা, খাবারগুলো যদি কখনো ঠান্ডা হয়েও যায়, তবে কষ্ট করে সেগুলো একটু গরম করে খেয়ে নিবি, ঠিক আছে?
গোসল আর ঘুম ঠিক সময়ে করিস তো? নাকি সেটাও অলসতার কারণে করছিস না?

তোকে বলেছিলাম, তোর একটা ছবি পাঠিয়ে দিস, সেটাও পাঠাতে ভুলে গেছিস! কেন রে খোকা এমন করিস? আমার কথা কি একবারও মনে পড়ে না তোর?
ওই যে পুরনো একটা ছবি বাঁধাই করে রেখে চলে গেছিস, আজও সেটাই শুধু দু’চোখ ভরে চেয়ে চেয়ে দেখি আর ভাবি, না জানি তুই কত বড় হয়ে গেছিস!

তোর মনে যে এত অভিমান, সেই শাস্তিটাই বুঝি আজও আমাকে বছরের পর বছর দিয়ে চলছিস, তাই না? তবে কি সারাটা জীবন এভাবেই অভিমান করে দিনগুলো কাটিয়ে দিবি? নাকি আমার এই শূন্য বুকে একবার ফিরে এসে বলবি,
“মাগো, এই দেখো আমি ফিরে এসেছি!”

ওই যে কবে, কত বছর আগে আমাকে একা ফেলে রেখে চলে গেলি, সে হিসেবটাও এখন মেলাতে পারি না! সময়টা এখন আর কোনোমতেই কাটছে না রে খোকা! কীভাবে যে তুই এতটা পাষাণ হতে পারলি ভাবতেই পারছি না! আমি যে তোকে এক নজর দেখার অপেক্ষায় আজও বেঁচে আছি রে খোকা, সেটাও কি তুই বুঝতে পারিস না! বল তো?

এই তো সেদিনও আমি তোর সেই প্রিয় খাবারটা রান্না করে রেখেছিলাম, তুই ফিরে আসবি বলে অপেক্ষায় বসেছিলাম পুরনো সেই চেয়ার-টেবিলটায়! তোর কি মনে পড়ে রে খোকা, যেখানে বসিয়ে তোকে আমি নিজ হাতে খাইয়েছিলাম?
হ্যাঁ, আমি সেখানেই বসে বসে তোর পছন্দের খাবারগুলো নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম, অথচ তুই ফিরে এলি না! পরে অবশ্য তোর মতো করেই রাগে-অভিমানে সবগুলো খাবার একা একাই খেয়ে নিয়েছি! কী করব বল? আমি না খেলে তো তুই আবার আমার ওপর আরও বেশি অভিমান করে থাকতি! সেটা ভেবেই সেদিনের সবগুলো খাবার আমি একাই তৃপ্তি করে খেয়ে নিয়েছিলাম!

ওই যে চলে গেছিস, বছরের পর বছর পার হয়ে গেল অথচ আজও ঘরে ফেরার কথাটা ভাবলি না!
যাবার সময় মিথ্যে যতসব কথা বলে আমাকে শুধু শুধু সান্ত্বনা দিয়ে গেলি! কেন রে খোকা? তবে কি আমার সেই আশাগুলোকেও এভাবেই বছরের পর বছর স্বপ্নের সাগরে ভাসিয়ে রাখবি?
আচ্ছা বল তো, তোর কি ওখানে খুব কষ্ট হয় রে খোকা? কেউ কি তোকে আমার মতোই বকাবকি করে?

আর হ্যাঁ, শোন খোকা, আমি তোর অভাগিনী মা হয়ে তোকে কিছু আদেশ করছি, একদম মনোযোগ সহকারে শুনবি! শোন, যেখানে আছিস ওখানকার কারো সাথেই তুই রাগারাগি করবি না, অথবা কারো সঙ্গে মনও খারাপ করে থাকবি না রে খোকা! বরং সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করবি, প্রয়োজনে নিজের ভুলের জন্য ওদের কাছে ক্ষমা চাইতে হলেও ক্ষমা চেয়ে নিবি, বললাম!

আর আমার সাথে যেভাবে তুই বকবক করে কথা বলতি, সেভাবে কারো সাথে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত একটা কথাও বলবি না! কেউ যদি উদ্ভট কথাবার্তা বলতে আসেও, তবে তুই তার কথার জবাব না দিয়ে একদম চুপ থাকার চেষ্টা করবি!

আর শোন, আমার জন্য একটুও বাজে চিন্তা করবি না! আমি অনেক… হ্যাঁ, একদম খুব ভালো আছি রে খোকা! তোর রেখে যাওয়া ওষুধগুলো এখনো ঠিকমতো খাচ্ছি! তবে বাম পাশের বুকের ব্যথাটা মাঝেমধ্যে কমবেশি বেড়ে যায়! কী করব বল তো? কিছুতেই যে পুরনো ব্যথাটা আর কমাতে পারছি না! তবে এটা ঠিক বলতে পারি, তুই বাড়িতে ফিরে এলে ভালো কোনো ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে খেলে তখন হয়তো ব্যথাটা খুব দ্রুত সেরে যাবে!

তুই তো জানিস রে খোকা, আমি তো আবার একা একা কখনো কোনো ডাক্তারের কাছে যেতেও পারি না! সেটা যে এখন আর আমার পক্ষে এই বয়সে সম্ভব নয় রে খোকা! তাছাড়া তুই তো এটাও জানিস, কোথাও একা যেতে চাইলেও সেই পথ ধরে ঠিকমতো চলতেও পারি না!

কতদিন আগে তুই আমায় একটা চশমা কিনে দিয়েছিলি, সেটাও আজ ভেঙে পড়ে আছে! সেদিন তোর একটা দুঃস্বপ্ন দেখে বিছানা থেকে মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম, তাতেই চশমাটার ওই হাল হয়েছে! আমার পড়ে যাওয়ার কথাটা শুনে আবার দুশ্চিন্তা করিস না! বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে আঘাত কিন্তু আমি একটুও পাইনি! তবে শরীরের আঘাতের চেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছিলাম তোর দেওয়া সেই চশমাটা ভেঙে গিয়েছিল বলে!

শোন রে খোকা, এইবার কিন্তু তুই ফিরে এসে মজবুত দেখে আমায় একটা চশমা কিনে দিবি, বলে দিলাম কিন্তু, হুম?

তোর কি মনে আছে রে খোকা? তুই যখন খুব ছোট ছিলি, ওই সময় আমার কোলে শুয়ে কেঁদে কেঁদে কত কিছুরই না বায়না ধরেছিলি!
তোর সেই বায়না ধরা প্রতিটি জিনিস আমি কিন্তু তোকে ঠিকই কিনে দিয়েছিলাম? কী, দিয়েছিলাম কি না বল?
তাহলে তুই কেন আমাকে এই সামান্য একটা চশমা কিনে দিতে পারবি না বল তো? এবার ফিরে এলে অবশ্যই কিন্তু তোকে কিনে দিতে হবে, বললাম!

শোন খোকা, সবশেষে তোকে একটা কথাই বলছি,
শুধু তুই আমার বিছানার পাশে নেই বলে আমার বুকের পাঁজরগুলো খসে খসে পড়ে যাওয়ার মতো হয়ে যাচ্ছে!
তাই বলছি কি রে খোকা, তুই যদি আমায় সত্যি সত্যিই তোর অন্তর থেকে ভালোবেসে থাকিস, তবে আমার ওপর পুরনো অভিমানগুলো ভুলে গিয়ে খসে পড়া পাঁজরগুলো জোড়া লাগানোর জন্য খুব তাড়াতাড়ি তুই আমার এই শূন্য বুকে ফিরে আয় রে খোকা!

ও হ্যাঁ, জানিস, তোর সেই ছোটবেলার বিছানাটি, আজও আমি সেটা বিছিয়ে সারাক্ষণ শুয়ে থাকি আর এখনো সেটাতেই শুয়ে শুয়ে তোর কাছে এই চিঠিটাও লিখছি!
তোর সেই পুরনো শরীরের ঘ্রাণ,
হারিয়ে যাওয়া সেই কতসব কথা,
মা ও ছেলে মিলে দুজনার মাঝে কত ছিল অভিমান,
ইস! তোর সেই মাথার বালিশটা, সেটাও আজ কিছুতেই আমার কোল ছাড়তে চাইছে না! আর তুই কিনা আমার ওপর রাগে-অভিমানে ভরা এই কোলটাকে খালি করে কত দূরে গিয়ে পড়ে আছিস!

অনেক কথাই লেখা বাকি রইল রে খোকা! চোখে এখন শুধু ঝাপসা দেখছি, তাই আর বেশি লিখতেও পারলাম না, এখন এই পর্যন্তই ইতি টানলাম, ভালো থাকিস, নিজের শরীরের প্রতি ঠিকমতো খেয়াল রাখিস! আর এই শূন্য বুকে কবে ফিরে আসবি সেটাও খুব দ্রুত আমায় জানাস!
তোর জবাবের অপেক্ষায় রইলাম।

          ইতি-
          তোর অভাগিনী মা।

রচনাকাল: ৩০-০৯-২০১৭ ইং।

0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

শামীম নিমু-এর আরও লেখা (29 টি)

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
লেখক তালিকা
চাকরির বিজ্ঞপ্তি
অন্যান্য