রেনির অল ব্ল্যাকস কি পারবে স্প্রিংবকদের আধিপত্য থামাতে? WXV গ্লোবাল সিরিজের ম্যাচ অফিসিয়ালদের নাম ঘোষণা করলো ওয়ার্ল্ড রাগবি গলফ জিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের খোঁচা ট্রাম্পের, বললেন ‘এটাই ট্যালেন্ট’ অবহেলার কালো চাদর নারী পুরুষের ধৈর্য পেপারওয়েট গোলাপী রঙের বাস সময়ের অহংকার বর্ণমালার ভাঁজে ধুলো মাখা পৃথিবীর প্রেম
LIVE
ই-পেপার
নাটক

অবশেষে কোহিনূর ফিরে আসে মায়ের কাছে- [প্রথম খণ্ড]

লেখক: শামীম নিমু

প্রকাশ: 18 August, 2026, 11:30 PM

[প্রথম কলি]
(নাটকটিতে ১৯৮৮ইং সালের কিছু সংখ্যক নারীরা সমাজে যেভাবে তাঁরা অবহেলিত হয়েছিলেন তাঁরই কিছু কাল্পনিক চরিত্র তুলে ধরা হয়েছে মাত্র৷ সম্পূর্ণ নাটকটির ভাষাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, উত্তরবঙ্গের রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক ভাষায়৷)

[প্রথম খণ্ড]
চার শতক জমির উপর একটি মাত্রই কোহিনূরের কুড়েঘর৷ কোহিনূরের বাবা রিকশা চালিয়ে দৈনিক উপার্জিত অর্থ দ্বারা এই চার শতক জমিটুকু কিনেছিলেন অন্যের কাছ থেকে৷ এরপূর্বে এই চার শতক জমির উপর কুড়েঘরটি ছিল অস্থায়ী৷
ভাঙাগড়া সেই সংসারে সদস্য সংখ্যা তখন ছিল মাত্র তিনজন৷ কোহিনূরের বাবা, মা ও কোহিনূর৷ এছাড়া সেইসময় কোহিনূরের মায়ের গর্ভে ছিল ছয় মাস বয়সের আরেকটি সন্তান৷ হঠাৎ কোন একদিন কোহিনূরের বাবা শহরে রিকশা চালাতে গিয়ে চলিত একটি বাসের সঙ্গে এক্সিডেন্ট করে তৎক্ষণাৎ তিনি মৃত্যুবরণ করেন৷ এরপর থেকেই সংসারটা চলতো অনেক কষ্টের উপর দিয়ে৷ কখনো সখনো দিনে খেতো তো রাতের খাবারটা আার তাদের ভাগ্যে জুটতো না৷
এমুনি অভাবের মধ্যে থেকেও কয়েক মাস পর কোহিনূরের মা ফুটফুটে একটি ছেলে সন্তান গর্ভপাত করেন৷ সন্তানটির সুন্দর মুখের দিকে চেয়েই মা তখন তাঁর নাম রাখেন মানিক৷ ঐসময় মা তখন মনে করেছিলেন যেন তাঁর ঘরে মানিক রত্নই ফিরে এসেছে, এবার আর তাঁর সংসারে কোন অভাব অনটন থাকবে না৷ ফুটফুটে একটি ভাই পাওয়াতে কোহিনূরের চোখে মুখে ছিল হাস্যজ্জ্বল খুশির ভাব৷ তা সত্ত্বেও কী আর সেই সংসারের অভাব অনটনটা দূর হয়েছিল? না হয়নি, বরং অভাব আরও দিনদিন বেড়েই চলেছিল৷

কোহিনূরের বয়স তখন সবেমাত্র ছয় বছর৷ আর ফুটফুটে ছোট্ট ভাইটির বয়স মাত্র কয়েক দিন৷ ঘরে এক ছটাক চালও ছিল না, কোহিনূর খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। গর্ভপাত তাঁর মা’কে সে যদি কোন কিছু খাওয়াতে না পারে তো তাঁর ছোট ভাইটিও ক্ষুধায় কাঁদবে! এই ভেবে কোহিনূর তখনই মনস্থ করল যে ওপাড়ায় গিয়ে কাহারও কাছ থেকে কিছু চাল ডাল পাওয়া যায় কিনা৷
ওপাড়া বলতে, তাদের পার্শ্ববর্তী পাড়াটির নাম ছিল মাঝিপাড়া। মাঝিপাড়ায় বাস করতেন আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। আবুল হোসেন ছিলেন খুব দয়ালু ও সাদাসিধে একজন মানুষ। কোহিনূর সবসময় ওনাকে মামা বলেই ডেকে থাকত। আবুল হোসেন ছিলেন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ব্যক্তি। ওনার আচার ব্যবহার ছিল খুবই ভদ্রোচিত৷ মাঝিপাড়ার সকল ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ৷ যিনি কিনা যখনই কোহিনূরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে যেত তখনই তিনি পাঞ্জাবীর পকেট থেকে এক বা দু টাকা বের করে কোহিনূরের হাতে দিয়ে দিতেন৷
সেদিন দুপুর বেলা কোহিনূর মাঝিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবার মাঝ পথেই তাঁর সেই আবুল হোসেন মামার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে যায়৷ আবুল মামার সামনাসামনি পড়ায় কোহিনূর তখন ওনাকে সালাম জানালো,

কোহিনূর: আসছালামু আলাইকুম, মামা৷

আবুল হোসেন: ওয়া আলাইকুমস্ সালাম।
এতো অদের-(রোদ)-এর মধ্যে কোন্টে যাস্ গো মা?

কোহিনূর ভার গলায় জবাব দিলো-

কোহিনূর: উম..না মামা, এই এ্যামনি এ্যানা না এইদিকে ঘুরবার জন্যে আসলুম৷

আবুল হোসেন ঐসময় তখন কোহিনূরের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন যে, কোহিনূরের মুখটা ছিল একদম শুকনো৷ তিনি ওর অমন শুকনো মুখটি দেখার পর যতদূর সম্ভব অনুমান করে বুঝলেন যে, কোহিনূরের পেটে হয়তোবা এখনও পর্যন্ত কোনো ধরনের দানাপানি পড়েনি৷ তাই তিনি ততক্ষণে বেশিকিছু আর কথা না বাড়িয়ে কোহিনূরকে তিনি সোজাসুজি বলে বসলেন-

আবুল হোসেন: আজ তোর মুখকনা এতো শুকনা শুকনা নাকছে ক্যা? সত্য করি কো তো কী হচে তোর? বিয়ান বেলা কী কিছু খাছিলু?

কোহিনূর: না মামা, এ্যাকনো কিছুই খাম নাই মুই৷

আবুল হোসেন: হায় হায় এ্যাগলা তুই কী কস্, এতো বেলা হচে এ্যাকনো ক্যামন তুই কিছুই খাইস্ নাই? আয় তো দ্যাকম মোর সাথে, দ্যাকম তোর মামী কোনকিছু আন্দিছে কিনা৷

আবুল হোসেন এই কথাগুলো বলার অন্তে পরেক্ষণেই কোহিনূরের হাতটি ধরে তিনি তাঁর বাড়ির আঙিনার সামনের দিকে টেনে আনলেন৷ আঙিনার সামনে দাঁড়িয়ে বড় গলায় তিনি তাঁর স্ত্রীকে ডাকছিলেন…

আবুল হোসেন: কোটে গো শরিফার মা’উ…ও শরিফার মাউ.. এদিকে এ্যানা আসো তো দ্যাকম তাড়াতাড়ি৷
শরিফার মা-(হাসনা বানু) তাঁর স্বামীর ওভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করে ডাক দিচ্ছিল বলে শুনে ঘর থেকে বের হয়ে এসেই তিনি তাঁর স্বামীর উদ্দেশ্যে বলতে শুরু করলেন-

হাসনা বানু: কী হচে গো তোমার এতো কাউলান ক্যা? কও তো কও?

আবুল হোসেন: আর কন্ না গো, এই দ্যাকো তোমার আদরের ভাগনী কোনা এতো বেলা হচে এ্যাকনো বলে তাও কিছুই খায় নাই৷ আচ্ছা ভাতের হাড়িত কী এ্যানা ভাতটাত আছে? থাকলে দেও তো অক এ্যানা!
হাসনা বানু এ্যাগলা তুমি কী কন গো! এ্যাকনো ক্যামন ভাত খায় নাই উঁই?

আবুল হোসেন: এতো কথা বাদ দেও তো একোন্, আগে এ্যানা অক ভাতটাত থাকে খাবার দাবার দেও৷

স্বামীর একথাটি শুনেই হাসনা বানু কোহিনূরকে সঙ্গে করে নিয়ে সোজা রান্না ঘরে চলে গেলেন৷

হাসনা বানু: ক্যা রো মা তোর মা’য়ে ক্যামন এ্যাকনো কিছুই আন্দে নাই? তোঁরঘোরে ঘরোত কী চাউল-টাউল এ্যানা কিছুই নাই?

কোহিনূর: মা’য় আন্দিবে কী দিয়া মামী, হামার ঘরের ঘরোত তো এ্যানা কিছুই নাই! ছোট ভাইটা মোর আজ কয়দিন ধরি উঁই খালি পেটোত খিদা নিয়া কাঁন্দে৷ মোক আর এ্যাগলা ভালো নাগে না গো মামী! কী যে করোম না মুই চিন্তা করে পাম না!

হাসনা বানু: আহারে, তোর বাপটা যদিল্ এতোদিনে বাঁচি থাকতো তালে কী আর তোর ঘোরে কপালোত এতো দুঃখু থাকলো হোয়৷ তাড়াতাড়ি খায়া নে তো দ্যাকম, মোর কাছ থাকি দুই পোয়া চাউল আর কয়টা আলু আছে দ্যাইম আলা নিয়া যাস্!

কোহিনূর: আচ্ছা, ও-মামী চাউলের সাথোত এ্যানা দুই এ্যাকটা মোইচও দ্যান গো?

হাসনা বানু: আচ্ছা দ্যাইম আলা, এখন ভাত কোনা খায়া নে তো তাড়াতাড়ি৷
(চলমান….)


রচনাকাল: ১৩-১২-২০১৯ইং৷

0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!

শামীম নিমু-এর আরও লেখা (29 টি)

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
লেখক তালিকা
চাকরির বিজ্ঞপ্তি
অন্যান্য