প্রিয় সংসার,
অনেকদিন পর, তিন-কোণা বিশিষ্ট একটুকরো সাদা কাগজে, কালো কালির আঁচড়ে ছোট ছোট কিছু শব্দে, ক্লান্ত এই জীবনের অপ্রকাশিত কিছু কথা তোমার নিকট লিখে তা চিঠির খামে পাঠালাম।
জানি না কখন, কোন সময়, কে আমার এই চিঠিখানার বাহক হয়ে তোমার কাছে, তোমারই হাতে পৌঁছে দেবে! যদিও কোনোভাবে এই চিঠিখানা তোমার অধীর বাহুতে গিয়ে পৌঁছায়, তবে আমার অন্তরের সতেজ ভালোবাসাটুকু তোমার হৃদয়ে সযত্নে গেঁথে নিও। এবং আমার সেই সতেজ অন্তর থেকেই তোমার নিকট অনুরোধ-ক্রমে অকৃত্রিম কিছু শব্দে এ মনেরই না বলা কিছু ভাষা প্রকাশ করছি-
প্রথমে তুমি আমার এই চিঠিখানার ভাঁজগুলো খুব যত্নে ধীরে ধীরে খুলে নিও। যদি বাড়ির উঠানের উত্তর দিকের ডুমুর গাছের ডালে বসে থাকা কালো ওই কাক পাখিটি তোমায় কিছু বলতে আসে, তখন তুমি তাকেও বকে-ঝকে তাড়িয়ে দিও। আমার এই চিঠিখানার একেকটি অক্ষর বা শব্দের কম্পনে কেউ হয়তোবা বিগড়ে গিয়ে বন-জঙ্গলের হিংস্র প্রাণীর মতোই আকার ধারণ করতে পারে! কারো হয়তোবা অর্ধ-ঘুমন্ত ঘুমটিও ভেঙে যেতে পারে!
তাই বলছি, সে সবের সাবধানতার খেয়ালটিও তোমার শীতল মস্তিষ্কে রেখো! তবে এর চেয়ে বোধহয় সেটাই করলে ভালো হতে পারে, তুমি বরং তোমার নিজের বাহুতে যে বদ্ধ ঘরটি রয়েছে, ওই ঘরটিতেই তুমি চুপিসারে প্রবেশ করিও! প্রয়োজনে তোমার সেই ঘরের সবকটি দরজা-জানালা ঠিকঠাক-ভাবে বন্ধ করে দিও! এরপর তুমি তোমার মুগ্ধ ঘ্রাণের ঝলমলে মাথার কালো রেশমি চুলগুলোর বাঁধন খুলে দিও! তারপর মুক্ত হৃদয়ে দু’চোখ মেলে তোমার কোমল হাতের স্পর্শে আমার পাঠানো চিঠিখানার ভাঁজগুলো খুব আস্তে ধীরে খুলো!
হয়তোবা তুমি আমার পাঠানো চিঠিখানার প্রতিটি অক্ষর, শব্দ ও বাক্যের লাইনগুলো পড়তে গিয়ে তোমার অধো-ভাঙা হৃদয়টাই ভেঙে ফেলতে পারো! তাই তোমাকে আরও কিছুদিন বেঁচে থাকার প্রচেষ্টায়- কিছু অমূল্য সুখের আশায় আবারও ভাঙা হৃদয়ের সীমানায় অন্য আরেকটি নতুন শক্ত দেয়াল তৈরি করে নিও! হয়তো তা গড়তে গিয়ে অনেকটাই তোমার কষ্টও হতে পারে!
এরপরও এই পাষণ্ড হৃদয় থেকেই বলছি- শুধু আমারই জন্য ওইটুকু কষ্ট তুমি অনায়াসে সহ্য করে নিও! তোমার সেই ভাঙা হৃদয়ে বসে এটুকুই আমি আবারও তোমায় সত্যিটাই বলছি যে, আমার এই চিঠিখানার বাক্য ভাষায় কোনো ধরনের অভিনয়ের চিত্রটিও আমি তুলে ধরিনি! বরং এই চিঠিখানা আমি আমার প্রতিটি পদ ও পথের নতুন আরেক প্রেমের পথিক হিসেবে, দু’নয়নের মণি হতে শুধু তোমাকেই এই আত্মার ভেতরের দৃষ্টিতে রেখে মুগ্ধতার সহিত নিঃশ্বাসটুকু ছেড়েই তা লিখেছি!
অতএব,
সেই তুলনায় আমার এই লেখা চিঠিখানার ভাষায় বিনিময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বিকল্প ভাবনায় তোমাকে আমি বলতে বা জানাতেও পারলাম না! এছাড়া এটিও আমার উৎফুল্ল স্থায়ী হৃদয়টি শতবার তোমায় জানাচ্ছে যে, আমি শুধু তোমাকেই এই অন্তরের গভীর থেকে ভীষণ, ভীষণ ভালোবাসি! সবশেষে আবারও এটুকুই বলে ইতি টানছি- তুমি শুধু আমার এবং আমারই পাঁজরের মধ্যে থাকা তাজা কলিজার মূল অংশটুকু হয়ে ওভাবেই সারাজীবন গেঁথে আছ।
রচনাকাল: ১১-১১-২০১৮ইং।
মন্তব্য করুন