আমার দাদু নিজেকে খুব বুদ্ধিমান মনে করেন। সুযোগ পেলেই বলেন,
~আমার সময়ে মোবাইল ছিল না, কিন্তু বুদ্ধি ছিল! আর এখনকার ছেলেপেলের বুদ্ধি? না ঢেঁকি আছে, না বুদ্ধি!
একদিন দাদুকে স্মার্টফোন শেখাতে গেলাম।
বললাম,
~দাদু, আগে ফোনটা আনলক করো।
দাদু বেশ কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,
~তালা কোথায়? চাবিটা কি তোর কাছে?
আমি হেসে বললাম,
~তালা নেই, দাদু। পাসওয়ার্ড দিতে হবে।
দাদু ভুরু কুঁচকে বললেন,
~তাহলে তালা নেই, আবার পাসওয়ার্ড আছে! তোমাদের যুগের তালাও দেখি বেশ চালাক! তবে তোমাদের মতোই গাধা। নইলে চোরের সঙ্গে মালিককেও ঢুকতে দিত না?
আমি বললাম,
~পাসওয়ার্ড ছাড়া কেউ খুলতে পারবে না, দাদু। তোমার মতো চোরও না, আমার মতো মালিকও না!
দাদু মুখ বাঁকিয়ে বললেন,
~বুঝলি? একটা বাক্সের মতো জিনিস তোমাদের বুদ্ধি কমিয়ে গাধা বানিয়ে রেখেছে!
আমি আর কথা বাড়ালাম না। ফোন খুলে ইউটিউব দেখালাম।
কিছুক্ষণ ভিডিও দেখার পর দাদু বললেন,
~এখানে সবকিছু শেখানো হয়?
~হ্যাঁ।
~তাহলে আমার পুরোনো রেডিওটা ঠিক করার ভিডিও দেখাও।
ভিডিও দেখে দাদু রেডিও নিয়ে বসে গেলেন। কিছুক্ষণ পর রেডিও তো ঠিক হলোই না, ব্যাটারিটাও গায়েব!
আমি বললাম,
~দাদু, তোমার বুদ্ধি গেল কোথায়?
দাদু গম্ভীর হয়ে বললেন,
~বুদ্ধি আছে বলেই তো বেশি খাটুনি করিনি। আমি কি তোদের মতো গাধা?
~রেডিওটা তো ঠিক হলো না!
~সেটাই তো আমার বুদ্ধি! বুঝলাম, রেডিও ঠিক করার কাজটা ইউটিউবের লোককেই করতে দেওয়া উচিত ছিল। বিনা পয়সায় পরিশ্রম করে কে? হুঁশ!
আমি মাথা নেড়ে বললাম,
~দাদু, তোমার সত্যিই ভারী ধান্দাবাজি বুদ্ধি!
ঠিক তখনই দাদি এসে হাজির।
~কে এত বুদ্ধিমান শুনি? ও বুড়ো, তোমার আবার এত বুদ্ধি কবে হলো?
দাদু আমার কানে কানে বললেন,
~এই রে! এসে গেছে ঢ্যামনি বুড়িটা। এবার রক্ষে নেই!
দাদি বললেন,
~এতই যদি বুদ্ধি থাকে, তাহলে আমার হারানো চশমাটা খুঁজে দাও। দেখি, কেমন বুদ্ধি!
দাদু বুক ফুলিয়ে বললেন,
~এ আবার এমন কী কাজ? সরো তো, দেখি!
দাদু ঘরের এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগলেন। খাটের নিচে দেখলেন, টেবিলের ওপর দেখলেন, আলমারির পাশেও দেখলেন। শেষে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,
~চশমাটা কোথায় রেখেছিলে?
দাদি শান্তভাবে বললেন,
~তোমার মাথার ওপর।
দাদু মাথায় হাত দিয়ে চশমা নামিয়ে এনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর হেসে বললেন,
~দেখলি? এতক্ষণ ধরে খুঁজছিলাম, অথচ বুদ্ধিটা আমার মাথার ওপরই ছিল!
দাদি চোখ পাকিয়ে বললেন,
~ওরে বুড়ো! কথায় হার মানবি না, তাই না? ঢ্যামনা বুড়ো কোথাকার! তোমার মতো একজনের সঙ্গে কীভাবে যে এত বছর সংসার করলাম!
দাদু সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
~কেন রে বুড়ি? আরেকটা বিয়ে করব নাকি? বয়স তো মাত্র একাশি! দাঁত অবশ্য এখনো দুটো আছে। একটা বিয়ে করলে মন্দ হয় না। কী বলিস?
দাদি এক মুহূর্তও দেরি না করে বললেন,
~ও বাবা! তোমার দুটো দাঁত থাকলে আমার এখনো তিনটে আছে। আমি চাইলে দুটো বিয়ে করতে পারি! আজ দেখি, তোমাকে খাবার দেয় কে!
দাদু মুচকি হেসে বললেন,
~বুড়ি, তোমার জন্য পান সাজলাম। পানটা কে খাবে শুনি? আমার ইয়াং বউ ছাড়া আমার আর কে আছে?
দাদি মুখ ঘুরিয়ে বললেন,
~যাও তো! বুড়ো বয়সে আবার ইয়াং বউ!
আমি আর হাসি সামলাতে পারলাম না।
বললাম,
~দাদু, তুমি সত্যিই বুদ্ধিমান!
দাদু গর্ব করে বললেন,
~জানি তো!
তারপর একটু নিচু গলায় আমার কানে কানে বললেন,
~তবে দাদির সামনে কথাটা বলিস না। উনি আমার বুদ্ধির সব প্রমাণ নষ্ট করে দেন! পাগল চ্যাতাইলে আর রক্ষে নেই, দাদুভাই!
আমি আর দাদু একসঙ্গে হেসে উঠলাম।
দাদি দূর থেকে বললেন,
~কীসের এত হাসি? আবার আমার নামে কিছু বলছিস না তো?
দাদু সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেলেন।
~না না, বুড়ি! আমি তো বলছিলাম, তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমতী মহিলা!
দাদি সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললেন,
~সত্যি?
দাদু আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে বললেন,
~একেবারে সত্যি! নিজের বুদ্ধি বাঁচাতে মাঝে মাঝে অন্যের বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়!
আমি আবার হেসে ফেললাম।
দাদুও হাসলেন।
দাদি কিছু বুঝতে না পেরে বললেন,
~তোমরা দুজনই পাগল!
দাদু আস্তে করে বললেন,
~দেখলি? শেষ পর্যন্ত বুদ্ধির জয় হলো!
রচনাকাল: ২৮-০৯-২০২৬ইং।
আমার দাদু নিজেকে খুব বুদ্ধিমান মনে করেন। সুযোগ পেলেই বলেন,
~আমার সময়ে মোবাইল ছিল না, কিন্তু বুদ্ধি ছিল! আর এখনকার ছেলেপেলের বুদ্ধি? না ঢেঁকি আছে, না বুদ্ধি!
একদিন দাদুকে স্মার্টফোন শেখাতে গেলাম।
বললাম,
~দাদু, আগে ফোনটা আনলক করো।
দাদু বেশ কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,
~তালা কোথায়? চাবিটা কি তোর কাছে?
আমি হেসে বললাম,
~তালা নেই, দাদু। পাসওয়ার্ড দিতে হবে।
দাদু ভুরু কুঁচকে বললেন,
~তাহলে তালা নেই, আবার পাসওয়ার্ড আছে! তোমাদের যুগের তালাও দেখি বেশ চালাক! তবে তোমাদের মতোই গাধা। নইলে চোরের সঙ্গে মালিককেও ঢুকতে দিত না?
আমি বললাম,
~পাসওয়ার্ড ছাড়া কেউ খুলতে পারবে না, দাদু। তোমার মতো চোরও না, আমার মতো মালিকও না!
দাদু মুখ বাঁকিয়ে বললেন,
~বুঝলি? একটা বাক্সের মতো জিনিস তোমাদের বুদ্ধি কমিয়ে গাধা বানিয়ে রেখেছে!
আমি আর কথা বাড়ালাম না। ফোন খুলে ইউটিউব দেখালাম।
কিছুক্ষণ ভিডিও দেখার পর দাদু বললেন,
~এখানে সবকিছু শেখানো হয়?
~হ্যাঁ।
~তাহলে আমার পুরোনো রেডিওটা ঠিক করার ভিডিও দেখাও।
ভিডিও দেখে দাদু রেডিও নিয়ে বসে গেলেন। কিছুক্ষণ পর রেডিও তো ঠিক হলোই না, ব্যাটারিটাও গায়েব!
আমি বললাম,
~দাদু, তোমার বুদ্ধি গেল কোথায়?
দাদু গম্ভীর হয়ে বললেন,
~বুদ্ধি আছে বলেই তো বেশি খাটুনি করিনি। আমি কি তোদের মতো গাধা?
~রেডিওটা তো ঠিক হলো না!
~সেটাই তো আমার বুদ্ধি! বুঝলাম, রেডিও ঠিক করার কাজটা ইউটিউবের লোককেই করতে দেওয়া উচিত ছিল। বিনা পয়সায় পরিশ্রম করে কে? হুঁশ!
আমি মাথা নেড়ে বললাম,
~দাদু, তোমার সত্যিই ভারী ধান্দাবাজি বুদ্ধি!
ঠিক তখনই দাদি এসে হাজির।
~কে এত বুদ্ধিমান শুনি? ও বুড়ো, তোমার আবার এত বুদ্ধি কবে হলো?
দাদু আমার কানে কানে বললেন,
~এই রে! এসে গেছে ঢ্যামনি বুড়িটা। এবার রক্ষে নেই!
দাদি বললেন,
~এতই যদি বুদ্ধি থাকে, তাহলে আমার হারানো চশমাটা খুঁজে দাও। দেখি, কেমন বুদ্ধি!
দাদু বুক ফুলিয়ে বললেন,
~এ আবার এমন কী কাজ? সরো তো, দেখি!
দাদু ঘরের এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগলেন। খাটের নিচে দেখলেন, টেবিলের ওপর দেখলেন, আলমারির পাশেও দেখলেন। শেষে হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন,
~চশমাটা কোথায় রেখেছিলে?
দাদি শান্তভাবে বললেন,
~তোমার মাথার ওপর।
দাদু মাথায় হাত দিয়ে চশমা নামিয়ে এনে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর হেসে বললেন,
~দেখলি? এতক্ষণ ধরে খুঁজছিলাম, অথচ বুদ্ধিটা আমার মাথার ওপরই ছিল!
দাদি চোখ পাকিয়ে বললেন,
~ওরে বুড়ো! কথায় হার মানবি না, তাই না? ঢ্যামনা বুড়ো কোথাকার! তোমার মতো একজনের সঙ্গে কীভাবে যে এত বছর সংসার করলাম!
দাদু সঙ্গে সঙ্গে বললেন,
~কেন রে বুড়ি? আরেকটা বিয়ে করব নাকি? বয়স তো মাত্র একাশি! দাঁত অবশ্য এখনো দুটো আছে। একটা বিয়ে করলে মন্দ হয় না। কী বলিস?
দাদি এক মুহূর্তও দেরি না করে বললেন,
~ও বাবা! তোমার দুটো দাঁত থাকলে আমার এখনো তিনটে আছে। আমি চাইলে দুটো বিয়ে করতে পারি! আজ দেখি, তোমাকে খাবার দেয় কে!
দাদু মুচকি হেসে বললেন,
~বুড়ি, তোমার জন্য পান সাজলাম। পানটা কে খাবে শুনি? আমার ইয়াং বউ ছাড়া আমার আর কে আছে?
দাদি মুখ ঘুরিয়ে বললেন,
~যাও তো! বুড়ো বয়সে আবার ইয়াং বউ!
আমি আর হাসি সামলাতে পারলাম না।
বললাম,
~দাদু, তুমি সত্যিই বুদ্ধিমান!
দাদু গর্ব করে বললেন,
~জানি তো!
তারপর একটু নিচু গলায় আমার কানে কানে বললেন,
~তবে দাদির সামনে কথাটা বলিস না। উনি আমার বুদ্ধির সব প্রমাণ নষ্ট করে দেন! পাগল চ্যাতাইলে আর রক্ষে নেই, দাদুভাই!
আমি আর দাদু একসঙ্গে হেসে উঠলাম।
দাদি দূর থেকে বললেন,
~কীসের এত হাসি? আবার আমার নামে কিছু বলছিস না তো?
দাদু সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর হয়ে গেলেন।
~না না, বুড়ি! আমি তো বলছিলাম, তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমতী মহিলা!
দাদি সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললেন,
~সত্যি?
দাদু আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে বললেন,
~একেবারে সত্যি! নিজের বুদ্ধি বাঁচাতে মাঝে মাঝে অন্যের বুদ্ধির প্রশংসা করতেই হয়!
আমি আবার হেসে ফেললাম।
দাদুও হাসলেন।
দাদি কিছু বুঝতে না পেরে বললেন,
~তোমরা দুজনই পাগল!
দাদু আস্তে করে বললেন,
~দেখলি? শেষ পর্যন্ত বুদ্ধির জয় হলো!
রচনাকাল: ২৮-০৯-২০২৬ইং।
মন্তব্য করুন