সালটা ছিল ২০২২। সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিট। সেদিন ছিল দুর্গাপূজার নবমী। পূজামণ্ডপের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই চোখ আটকে গেল একজনের দিকে। চারপাশে ঢাকের শব্দ, ধূপের গন্ধ আর আলোর ঝলকানি, সবকিছুর মাঝেও কেন জানি তাকে আলাদা করে চোখে পড়ল।
লাল টুকটুকে শাড়ি পরা একটি মেয়ে প্রণাম করছিল। আমি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, এত সুন্দর, মায়াবী চাহনির চোখ কি কোনো মেয়ের হতে পারে?
এত সুন্দর চুল, তার ওপর আবার খোঁপায় রজনীগন্ধার মালা। ইশ! কী মিষ্টিই না লাগছিল তাকে! লাল টুকটুকে লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁট দেখে মনে হচ্ছিল, ওই ঠোঁটের কাছে পৃথিবীর সব সৌন্দর্য যেন মাথা নত করে বলবে— ‘প্রেয়সী, তোমার আঁচলতলায় আমাকে ঠাঁই দাও; তবু আমাকে মাড়িয়ে চলে যেয়ো না।’
আহ্, কী সুন্দর রূপ! এমন রূপ যেন পৃথিবীর আর কোথাও আমি দেখিনি। সে প্রায় ১৫ মিনিট মণ্ডপের প্যান্ডেলের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি যেন এক সেকেন্ডের জন্যও তার ওপর থেকে চোখ সরাতে পারিনি।
তারপর সে মণ্ডপের ভেতর থেকে বের হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলার মধ্যে ঢুকল। আমি তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে অনুসরণ করতে শুরু করলাম।
আহ্! লুকিয়ে তাকে দেখার সেই অনুভূতির কথা ভাবলেই আজও ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
আমার মনে হচ্ছিল, পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর কিছু কি আর আছে? না, নেই! এমন রূপ কি আবার হয়?
তারপর আমি কেমন উন্মাদের মতো তার পিছু পিছু হাঁটতে লাগলাম। মেলায় তার ঘোরাঘুরি, ফুচকা খাওয়া, কানের দুল কেনা, নাগরদোলা দেখা— সবকিছুই আমি দূর থেকে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল, সে যে পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, সেই পথের প্রতিটি ধূলিকণাকেও যেন এক কোমল হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি।
আমার অনেক ইচ্ছা হচ্ছিল, তার কাছে গিয়ে একটু কথা বলি, তার সঙ্গে পরিচিত হই, তার কণ্ঠের আওয়াজ শুনি। কিন্তু সাহস পাইনি। দূর থেকেই শুধু তাকে দেখেছি।
তারপর দেখলাম, সে বাবা-মায়ের সঙ্গে রিকশায় উঠল। রিকশাটি আমার সামনে দিয়ে চলে গেল। আমি সেই রিকশার পেছনে অনেক দূর পর্যন্ত দৌড়ে গিয়েছিলাম— শুধু তাকে আরেকটু দেখব বলে।
কিছুদূর যাওয়ার পর তাকে আর দেখতে পেলাম না। কোথায় যে চলে গেল, তা আজও জানি না।
সেই যে সেদিন তাকে প্রথম দেখেছিলাম, আজও তাকে ভুলতে পারিনি। সেই চোখ, সেই চুল, সেই ঠোঁট, সেই লাল শাড়ি— আজও কখনো কখনো ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে।
হয়তো তার সঙ্গে আর কোনোদিন আমার দেখা হবে না। হয়তো তার খোঁজও কোনোদিন পাব না। কিন্তু তার প্রতি আমার যে অনুভূতি, তা হয়তো কখনোই শেষ হবে না। এই অনুভূতিটুকু বেঁচে থাকবে— অমলিন, অমর হয়ে।
সেই আমার দেখা শ্রেষ্ঠ নারী। আমার দেখা শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। আমার জীবনের প্রথম অনুভূতি।
কিছু কিছু ভালোবাসা এভাবেই হয়। কখনো রাস্তার মোড়ে, কখনো পার্কে, কখনো বা পূজামণ্ডপের প্যান্ডেলে। সেই ভালোবাসাগুলো অপূর্ণ থেকে গেলেও অনুভূতিগুলো সারাজীবন অমলিন হয়ে থেকে যায় হৃদয়ের মণিকোঠায়।
হ্যাঁ, সেই আমার প্রথম অনুভূতি— আমার প্রথম প্রেম।
রচনাকাল: ০৫-১০-২০২২ইং।
সালটা ছিল ২০২২। সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিট। সেদিন ছিল দুর্গাপূজার নবমী। পূজামণ্ডপের ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই চোখ আটকে গেল একজনের দিকে। চারপাশে ঢাকের শব্দ, ধূপের গন্ধ আর আলোর ঝলকানি, সবকিছুর মাঝেও কেন জানি তাকে আলাদা করে চোখে পড়ল।
লাল টুকটুকে শাড়ি পরা একটি মেয়ে প্রণাম করছিল। আমি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, এত সুন্দর, মায়াবী চাহনির চোখ কি কোনো মেয়ের হতে পারে?
এত সুন্দর চুল, তার ওপর আবার খোঁপায় রজনীগন্ধার মালা। ইশ! কী মিষ্টিই না লাগছিল তাকে! লাল টুকটুকে লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁট দেখে মনে হচ্ছিল, ওই ঠোঁটের কাছে পৃথিবীর সব সৌন্দর্য যেন মাথা নত করে বলবে— ‘প্রেয়সী, তোমার আঁচলতলায় আমাকে ঠাঁই দাও; তবু আমাকে মাড়িয়ে চলে যেয়ো না।’
আহ্, কী সুন্দর রূপ! এমন রূপ যেন পৃথিবীর আর কোথাও আমি দেখিনি। সে প্রায় ১৫ মিনিট মণ্ডপের প্যান্ডেলের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিল। আমি যেন এক সেকেন্ডের জন্যও তার ওপর থেকে চোখ সরাতে পারিনি।
তারপর সে মণ্ডপের ভেতর থেকে বের হয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলার মধ্যে ঢুকল। আমি তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে অনুসরণ করতে শুরু করলাম।
আহ্! লুকিয়ে তাকে দেখার সেই অনুভূতির কথা ভাবলেই আজও ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে।
আমার মনে হচ্ছিল, পৃথিবীতে এর চেয়ে সুন্দর কিছু কি আর আছে? না, নেই! এমন রূপ কি আবার হয়?
তারপর আমি কেমন উন্মাদের মতো তার পিছু পিছু হাঁটতে লাগলাম। মেলায় তার ঘোরাঘুরি, ফুচকা খাওয়া, কানের দুল কেনা, নাগরদোলা দেখা— সবকিছুই আমি দূর থেকে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল, সে যে পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, সেই পথের প্রতিটি ধূলিকণাকেও যেন এক কোমল হৃদয় দিয়ে অনুভব করছি।
আমার অনেক ইচ্ছা হচ্ছিল, তার কাছে গিয়ে একটু কথা বলি, তার সঙ্গে পরিচিত হই, তার কণ্ঠের আওয়াজ শুনি। কিন্তু সাহস পাইনি। দূর থেকেই শুধু তাকে দেখেছি।
তারপর দেখলাম, সে বাবা-মায়ের সঙ্গে রিকশায় উঠল। রিকশাটি আমার সামনে দিয়ে চলে গেল। আমি সেই রিকশার পেছনে অনেক দূর পর্যন্ত দৌড়ে গিয়েছিলাম— শুধু তাকে আরেকটু দেখব বলে।
কিছুদূর যাওয়ার পর তাকে আর দেখতে পেলাম না। কোথায় যে চলে গেল, তা আজও জানি না।
সেই যে সেদিন তাকে প্রথম দেখেছিলাম, আজও তাকে ভুলতে পারিনি। সেই চোখ, সেই চুল, সেই ঠোঁট, সেই লাল শাড়ি— আজও কখনো কখনো ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে।
হয়তো তার সঙ্গে আর কোনোদিন আমার দেখা হবে না। হয়তো তার খোঁজও কোনোদিন পাব না। কিন্তু তার প্রতি আমার যে অনুভূতি, তা হয়তো কখনোই শেষ হবে না। এই অনুভূতিটুকু বেঁচে থাকবে— অমলিন, অমর হয়ে।
সেই আমার দেখা শ্রেষ্ঠ নারী। আমার দেখা শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। আমার জীবনের প্রথম অনুভূতি।
কিছু কিছু ভালোবাসা এভাবেই হয়। কখনো রাস্তার মোড়ে, কখনো পার্কে, কখনো বা পূজামণ্ডপের প্যান্ডেলে। সেই ভালোবাসাগুলো অপূর্ণ থেকে গেলেও অনুভূতিগুলো সারাজীবন অমলিন হয়ে থেকে যায় হৃদয়ের মণিকোঠায়।
হ্যাঁ, সেই আমার প্রথম অনুভূতি— আমার প্রথম প্রেম।
রচনাকাল: ০৫-১০-২০২২ইং।
মন্তব্য করুন