রাত এগারোটা। পড়ার টেবিলে বসে ছিল রতন। বাইরে তখন টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। হঠাৎ ফোনে একটি মেসেজ এল-
>>> “তুমি হয়তো আমাকে মনে রাখোনি। কিন্তু আমি তোমাকে ভুলিনি।”
অচেনা নম্বর!
রতন কিছুটা অবাক হয়ে লিখল-
>>> আপনি কে?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “তখন তোমার বয়স দশ বছর। স্কুল ছুটির পর সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। তুমি তোমার টিফিন নিজে না খেয়ে একটি ছেলেকে দিয়েছিলে।”
রতন থমকে গেল।
হ্যাঁ, মনে পড়েছে।
সেদিন স্কুল ছুটির পর এক ক্ষুধার্ত ছেলেকে নিজের টিফিনটা দিয়ে দিয়েছিল সে। ছেলেটি খুব ক্ষুধার্ত ছিল। কিন্তু পরদিন থেকে তাকে আর কখনো স্কুলে দেখা যায়নি।
রতন লিখল-
>>> আপনি কি সেই ছেলে?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “না।”
তারপর আরেকটি মেসেজ-
>>> “আমি তোমাদের স্কুলের দারোয়ান ছিলাম। সেদিন তোমার দেওয়া খাবারটা ছেলেটি আমাকে দেখিয়ে বলেছিল, ‘দেখুন, পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে।’”
রতনের চোখ ভিজে উঠল।
সে লিখল-
>>> ছেলেটি এখন কোথায়?
অনেকক্ষণ কোনো উত্তর এল না।
তারপর মেসেজ এল-
>>> “জানি না, এখন কোথায় আছে। তবে সেদিনের পর সে আর স্কুলে আসেনি।”
রতন ফোনটা নামিয়ে রাখল।
ঠিক তখনই আবার মেসেজ এল-
>>> “তবে তোমাকে আরেকটা কথা বলা হয়নি।”
রতন দ্রুত ফোনটা হাতে নিল।
>>> “সেদিনকার সেই অর্ধেক খাওয়া টিফিন বক্সটা এখনো আমার কাছে আছে।”
রতনের বুকটা কেঁপে উঠল।
সে লিখল-
>>> কেন ছেলেটি সেটা শেষ করেনি? আর এত বছর পর সেটা আপনার কাছে কীভাবে এল?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “হ্যাঁ, সে খেয়েছিল। তবে অর্ধেকটা। তোমার দেওয়া খাবারের অর্ধেক খেয়ে বাকি অংশটা সে আমার কাছে রেখে গিয়েছিল। বলেছিল, ‘আমি খেলতে যাচ্ছি। ফিরে এসে বাকিটা খাব।’”
রতন লিখল-
>>> তাহলে ফিরে এসে বাকিটা খেল না কেন?
এবার বেশ কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।
তারপর মেসেজ এল-
>>> “আমার ছেলেটি সেদিন খেলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। কিন্তু তোমার দেওয়া সেই টিফিনের কথা আমি আজও ভুলিনি। তাই যখনই কাউকে না খেয়ে থাকতে দেখি, আমি তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”
রতন স্তব্ধ হয়ে গেল।
কাঁপা হাতে লিখল-
>>> আপনার ছেলে মানে? ওই ছেলেটি কি আপনার ছেলে?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “আপনি যাঁর সঙ্গে এতক্ষণ কথা বলছিলেন, এটা তাঁর ফোন নয়।”
রতন অবাক হয়ে লিখল-
>>> তাহলে আপনি কে?
ফিরতি মেসেজ এল-
>>> “পথিক।”
রতনের মনে হলো, কথাগুলো যেন আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে। সে আবার লিখল-
>>> আমি সেই লোকটির খোঁজ চাই, যাঁর সঙ্গে এতক্ষণ কথা বলেছি। আপনি কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন?
শেষবারের মতো উত্তর এল-
>>> “সে ১২টার ট্রেনে উঠে চলে গেছে। আমার ট্রেন ১২টা ১৫ মিনিটে। আপনি আমাকে আর মেসেজ দেবেন না।”
তারপর রতন একের পর এক মেসেজ পাঠাল। কলও করল। কিন্তু কোনো মেসেজই আর পৌঁছাল না। কলও সংযোগ পেল না।
নম্বরটি বন্ধ!
এরপর অনেক খোঁজ করেও রতন আর সেই লোকটির কোনো সন্ধান পায়নি।
তবে সেদিন রাতে রতন একটি বিষয় গভীরভাবে বুঝেছিল-
একটি ছোট্ট ভালো কাজ কখনোই সত্যিকার অর্থে ছোট থাকে না। কখনো তা কারও মনে একটি অমলিন স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকে। কখনো কারও জীবনের কঠিন সময়ে আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়। আর কখনো বহু বছর পর অচেনা একটি নম্বরের মেসেজ হয়ে ফিরে আসে।
রতন ফোনটা নামিয়ে রাখল।
বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছিল।
জানালার কাচ বেয়ে নেমে আসা বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো-
মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়। একটি ভালো কাজেরও কখনো শেষ হয় না; তা একজনের হৃদয় থেকে আরেকজনের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ে, আর কোনো না কোনোভাবে বেঁচে থাকে।
রচনাকাল: ২৭-০৯-২০২৬ ইং।
রাত এগারোটা। পড়ার টেবিলে বসে ছিল রতন। বাইরে তখন টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। হঠাৎ ফোনে একটি মেসেজ এল-
>>> “তুমি হয়তো আমাকে মনে রাখোনি। কিন্তু আমি তোমাকে ভুলিনি।”
অচেনা নম্বর!
রতন কিছুটা অবাক হয়ে লিখল-
>>> আপনি কে?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “তখন তোমার বয়স দশ বছর। স্কুল ছুটির পর সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। তুমি তোমার টিফিন নিজে না খেয়ে একটি ছেলেকে দিয়েছিলে।”
রতন থমকে গেল।
হ্যাঁ, মনে পড়েছে।
সেদিন স্কুল ছুটির পর এক ক্ষুধার্ত ছেলেকে নিজের টিফিনটা দিয়ে দিয়েছিল সে। ছেলেটি খুব ক্ষুধার্ত ছিল। কিন্তু পরদিন থেকে তাকে আর কখনো স্কুলে দেখা যায়নি।
রতন লিখল-
>>> আপনি কি সেই ছেলে?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “না।”
তারপর আরেকটি মেসেজ-
>>> “আমি তোমাদের স্কুলের দারোয়ান ছিলাম। সেদিন তোমার দেওয়া খাবারটা ছেলেটি আমাকে দেখিয়ে বলেছিল, ‘দেখুন, পৃথিবীতে এখনো ভালো মানুষ আছে।’”
রতনের চোখ ভিজে উঠল।
সে লিখল-
>>> ছেলেটি এখন কোথায়?
অনেকক্ষণ কোনো উত্তর এল না।
তারপর মেসেজ এল-
>>> “জানি না, এখন কোথায় আছে। তবে সেদিনের পর সে আর স্কুলে আসেনি।”
রতন ফোনটা নামিয়ে রাখল।
ঠিক তখনই আবার মেসেজ এল-
>>> “তবে তোমাকে আরেকটা কথা বলা হয়নি।”
রতন দ্রুত ফোনটা হাতে নিল।
>>> “সেদিনকার সেই অর্ধেক খাওয়া টিফিন বক্সটা এখনো আমার কাছে আছে।”
রতনের বুকটা কেঁপে উঠল।
সে লিখল-
>>> কেন ছেলেটি সেটা শেষ করেনি? আর এত বছর পর সেটা আপনার কাছে কীভাবে এল?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “হ্যাঁ, সে খেয়েছিল। তবে অর্ধেকটা। তোমার দেওয়া খাবারের অর্ধেক খেয়ে বাকি অংশটা সে আমার কাছে রেখে গিয়েছিল। বলেছিল, ‘আমি খেলতে যাচ্ছি। ফিরে এসে বাকিটা খাব।’”
রতন লিখল-
>>> তাহলে ফিরে এসে বাকিটা খেল না কেন?
এবার বেশ কিছুক্ষণ কোনো উত্তর এল না।
তারপর মেসেজ এল-
>>> “আমার ছেলেটি সেদিন খেলতে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। কিন্তু তোমার দেওয়া সেই টিফিনের কথা আমি আজও ভুলিনি। তাই যখনই কাউকে না খেয়ে থাকতে দেখি, আমি তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি।”
রতন স্তব্ধ হয়ে গেল।
কাঁপা হাতে লিখল-
>>> আপনার ছেলে মানে? ওই ছেলেটি কি আপনার ছেলে?
কিছুক্ষণ পর উত্তর এল-
>>> “আপনি যাঁর সঙ্গে এতক্ষণ কথা বলছিলেন, এটা তাঁর ফোন নয়।”
রতন অবাক হয়ে লিখল-
>>> তাহলে আপনি কে?
ফিরতি মেসেজ এল-
>>> “পথিক।”
রতনের মনে হলো, কথাগুলো যেন আরও রহস্যময় হয়ে উঠছে। সে আবার লিখল-
>>> আমি সেই লোকটির খোঁজ চাই, যাঁর সঙ্গে এতক্ষণ কথা বলেছি। আপনি কি আমাকে সাহায্য করতে পারেন?
শেষবারের মতো উত্তর এল-
>>> “সে ১২টার ট্রেনে উঠে চলে গেছে। আমার ট্রেন ১২টা ১৫ মিনিটে। আপনি আমাকে আর মেসেজ দেবেন না।”
তারপর রতন একের পর এক মেসেজ পাঠাল। কলও করল। কিন্তু কোনো মেসেজই আর পৌঁছাল না। কলও সংযোগ পেল না।
নম্বরটি বন্ধ!
এরপর অনেক খোঁজ করেও রতন আর সেই লোকটির কোনো সন্ধান পায়নি।
তবে সেদিন রাতে রতন একটি বিষয় গভীরভাবে বুঝেছিল-
একটি ছোট্ট ভালো কাজ কখনোই সত্যিকার অর্থে ছোট থাকে না। কখনো তা কারও মনে একটি অমলিন স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকে। কখনো কারও জীবনের কঠিন সময়ে আশার আলো হয়ে দাঁড়ায়। আর কখনো বহু বছর পর অচেনা একটি নম্বরের মেসেজ হয়ে ফিরে আসে।
রতন ফোনটা নামিয়ে রাখল।
বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছিল।
জানালার কাচ বেয়ে নেমে আসা বৃষ্টির ফোঁটাগুলোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো-
মানুষ চলে যায়, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যায়। একটি ভালো কাজেরও কখনো শেষ হয় না; তা একজনের হৃদয় থেকে আরেকজনের হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ে, আর কোনো না কোনোভাবে বেঁচে থাকে।
রচনাকাল: ২৭-০৯-২০২৬ ইং।
মন্তব্য করুন