জন্মের পর এই মাটির বুকে,
পৈতৃক নিবাসে করি বাস,
রক্তের সূত্রপাতেই জন্ম,
মায়ের কোলে হলো প্রকাশ।
আমি সেই অবোধ সন্তান,
জন্মের পরে ছিল না জ্ঞান,
অক্ষরহীন জীবনের পথে
নিরক্ষরতায় ক্ষুদ্র প্রাণ।
তবু জীবন চলছে যেন
পৃথিবীরই পথ ধরে,
যে পথটির শেষ নেই কোনো,
সময় শুধু যায় যে ঝরে।
শিকল বাঁধা এই দেহখানি
একদিন যাবে পড়ে,
আত্মা তখন উড়ে যাবে
অজানা কোনো ঘরে।
দেহের আত্মা বন্দী আজও,
কেউ কি শোনে তার বাণী?
নীরব রাতে আত্মা কাঁদে-
শোনে না তো কোনো প্রাণী।
কীট-পতঙ্গ, বৃক্ষলতা
সবই যেন প্রস্তুত রয়,
একদিন এই দেহখানি
মৃত্যুর মাঝে বিলীন হয়।
আমার মৃত্যুতে হাসবে পৃথিবী,
হাসবে আপন আত্মা?
পাপিষ্ঠ দেহে আত্মা বন্দী,
শিকল যেন তারই ব্যথা।
শিকলের সেই বাঁধন ভেঙে
আত্মা হবে মুক্ত,
স্রষ্টার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তখন
কী হবে আমার যুক্তি?
কী জবাব দেব হিসাব-নিকাশে,
কী বলব সেই দিনে?
জীবনজুড়ে যত ভুল করেছি,
সবই উঠবে মনে।
জ্বলন্ত লেলিহান অগ্নিশিখায়
পুড়ে যাবে দেহ,
ছাই হয়ে উড়ে যাবে প্রাণ
আকাশের দূর গেহ।
সেদিন হয়তো আত্মার কান্না
ভাসবে জীবন-সাগরে,
অশ্রুধারা মিলিয়ে যাবে
অনন্তেরই ঘোর অন্ধকারে।
রচনাকাল: ১৩-১২-২০২৫ ইং।
মন্তব্য করুন