[পর্ব: ০১/০১]
রাত ১১টা ৫৭ মিনিট। ঘড়ির তিনটি কাঁটা নিয়ম ছাড়াই চলছে, ঠিক যেমন অনাকাঙ্ক্ষিত স্মৃতিগুলো কলিজার মাঝে সূচের মতো ফুঁড়ে থাকে।
‘রাহুল’ বসে রয়েছে ঘরের জানালার পাশে। এক হাতে তার পুরনো একটি হালকা গরম চায়ের কাপ। বাইরে প্রচণ্ড বাতাস আর বৃষ্টি, কাদা মাটির মিশ্রিত বিরহের ঘ্রাণ। অপরদিকে ভারী মস্তিষ্কে কী সব শব্দ ফ্যানের পাখার মতো অনবরত ঘুরছে- একই চিন্তা, সেই একই অনুশোচনা।
আজ রাতে ঐশীকে সে মন থেকে বোঝাতে চেয়েছিল যে, তাদের সম্পর্কটা এখনো ঠিক আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু ঐশীর কণ্ঠে ছিল আজ অদ্ভুত এক শূন্যতা। যেন সে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে, চাইলেও তাকে আর ফেরানো সম্ভব নয়।
রাহুল দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বহুদিন ধরে বুকের ভেতরে তার কষ্টের একটা ভারী পাথর চাপা পড়ে রয়েছে। সে ভাবল, ‘আগামীকাল দেখা করে সবকিছু বুঝিয়ে বলব। হয়তো একটু হাসি, নয়তো একটু কান্না, এরপর সব আগের মতো আবার ঠিক হয়ে যাবে।’
ঠিক তখনই, হঠাৎ তার মোবাইল ফোনটা কেঁপে উঠল।
রাহুল চমকে উঠল। ফোনের স্ক্রিনের আলোয় অন্ধকার ঘরটা মুহূর্তেই আলোকিত হলো। ফোনের স্ক্রিনে সে লক্ষ্য করে দেখল- “ঐশী কলিং…“
বুকটা তার ধুকপুক করে উঠল। এখন? এই সময়?
সে দ্রুত কলটা রিসিভ করল। ফোনটা কানে ধরে গম্ভীর স্বরে বলে উঠল, “হ্যালো, ঐশী…?”
ফোনের ওপাশ থেকে সে ফিসফিসে কিছু কণ্ঠস্বর শুনছিল। ঠিক ফিসফিসও নয়, যেন বাতাসের গতিবেগে কিছু একটা ভেঙে যাওয়ার মতো শব্দ।
“…হ্যালো রাহুল… কোথায় তুমি… আমাকে…“
শুধু এই কথাটুকুই সে স্পষ্টভাবে শুনতে পেয়েছিল, এরপর আচমকা সব বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। যেন কেউ অনেকগুলো কাঁচের গ্লাস ভাঙছিল, যেন একটা পাহাড় ভেঙে পড়ছিল, এরপর একদম নিস্তব্ধ।
“হ্যালো, হ্যালো… ঐশী… ঐশী…?” রাহুল গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছিল। কিন্তু ওপাশ থেকে আর কোনো জবাব পেল না। ফোনের স্ক্রিনটা তার ডার্ক হয়ে গেল।
এক মুহূর্তের জন্য রাহুল বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে, এটা সে কী শুনল। চারপাশের সবকিছু তার থমকে গেল। বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি আর ঘন ঘন মেঘের গর্জন, অন্যদিকে অদ্ভুত সেই আওয়াজ তার হৃদয়ে ভয়ের মাত্রা বাড়িয়ে তুলছে।
ঐশীর কণ্ঠে ছিল ভীষণ আতঙ্ক। যেন তাতে ছিল মৃত্যুর ভয়।
রাহুল হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল- এখনই, যেভাবেই হোক এই মুহূর্তে ঐশীর কাছে তাকে যেতেই হবে। ততক্ষণে সে আর কোনো কিছু না ভেবে সোজা টেবিলের ওপর থেকে বাইকের চাবিটা হাতে নিয়ে ছুটল যেখানে সে বাইকটা রেখেছিল সেখানে। বাইকটা গেটের সামনে টেনে এনে সিটে বসেই সে দ্রুত বাইকটা স্টার্ট করল। বৃষ্টিভেজা শহরের অলিগলি পথে খুঁজতে গিয়ে সারাক্ষণ তার মনে একটাই কথা শুধু বারবার উঁকি দিচ্ছিল-
“ঐশীকে সে কিছুই হতে দেবে না।”
(চলমান…)
রচনাকাল: ০৩-০৭-২০২৬ ইং।
মন্তব্য করুন