আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এসআরও নং ৩৩০-আইন/২০২৬ মূলে এই বিধিমালা প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২০ এর ক্ষমতাবলে এই বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় যা রয়েছে:
১. পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ:
কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। পলিথিন, প্লাস্টিক, রেক্সিন বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো উপাদানে তৈরি প্রচারপত্র ব্যবহার করা যাবে না।
২. ব্যানার ও ফেস্টুনের সাইজ নির্ধারণ:
প্রচারণায় ব্যবহৃত ব্যানার সাদা-কালো রঙের হবে এবং আয়তন হবে সর্বোচ্চ ১০ ফুট × ৪ ফুট। ফেস্টুন হবে ১৮ ইঞ্চি × ২৪ ইঞ্চি এবং লিফলেট বা হ্যান্ডবিল হবে A4 সাইজের।
৩. ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়াকড়ি:
এবারই প্রথমবারের মতো ডিজিটাল প্রচারণাকে বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রার্থীকে তার ফেসবুক, ইউটিউবসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি আগেই রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে ভুয়া কন্টেন্ট তৈরি করা যাবে না
- ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কারো চেহারা বিকৃত করা যাবে না
- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে প্রচারণা করা যাবে না
৪. প্রচারণার সময়:
প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রকার প্রচারণা শুরু করা যাবে না। মাইক ব্যবহার করা যাবে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবলের বেশি হতে পারবে না।
৫. যানবাহন ও শোডাউন নিষিদ্ধ:
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় ৫ জনের বেশি সমর্থক নিয়ে যাওয়া যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল নিয়ে কোনো মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না।
৬. শাস্তির বিধান:
এই বিধিমালা লঙ্ঘন করলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
নতুন এই বিধিমালার ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার কমবে এবং পরিবেশবান্ধব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মনে করছে কমিশন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
প্রকাশ: ১২-০৯-২০২৬ ইং।
মন্তব্য করুন