নিস্তব্ধ নগরীর বুকে আজ অবসন্ন প্রহর জাগে,
নির্জনতার কৃষ্ণপটে অশ্রুর নক্ষত্র লাগে।
স্বপ্নেরা সব নির্বাসিত, প্রত্যাশারা ক্ষীণ,
জীবনের রথ থেমে আছে- পথিক কেবল ঋণ।
অদৃশ্য কোনো বিভীষিকা ছায়াপথে দেয় হানা,
প্রাণের প্রদীপ কাঁপে শুধু, নিভে যাওয়ার মানা।
ক্ষুধার অগ্নি দগ্ধ করে অনাহারী কঙ্কাল,
সময়ের করাল গ্রাসে বিবর্ণ সব সকাল।
যে জানালায় হাসির কূজন, আজ সেখানে শূন্যতা,
প্রতিটি দ্বারে প্রহরী যেন অজানা আশঙ্কা।
মানবতার মন্দিরজুড়ে ধূপের ধোঁয়া ক্ষীণ,
স্বার্থের শৃঙ্খলে বন্দী বিবেকের মলিন দিন।
তবু ধ্বংসস্তূপের নিচে সুপ্ত থাকে বীজ,
অন্ধ তমসা ভেদ করিতে আলো খোঁজে সৃষ্টির সৃজ।
যতই ঘন হোক প্রলয়ের ঘোর অমাবস্যার রাত,
প্রভাতের অরুণ রথে ফিরবেই নবজাত।
হে পরম, ভগ্ন প্রাণে দাও প্রত্যয়ের বাণী,
মানুষ যেন মানুষ থাকে, মুছে যাক হানাহানি।
একদিন এই স্তব্ধ ধরায় জাগুক জীবনের রব,
অশ্রুর শেষে হাসুক ধরণী- করুণাময় হে রব।
রচনা: নারায়ণগঞ্জ, ০৯/০৯/২০২৬ খ্রি.
মন্তব্য করুন