সুপর্ণার শেষ মেসেজ প্রথম প্রেম বুদ্ধিমান দাদু আত্মার কান্না অচেনা ফোন নম্বর রূপনগরের অভাব অদৃশ্য ডানা অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে আটক কিশোরের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার জীবনে ও মরণের পরে কবিদের বিপদে একটি স্থায়ী সঞ্চয়ী ফান্ডের প্রস্তাব
LIVE
ই-পেপার
ছোট গল্প

সুপর্ণার শেষ মেসেজ

লেখক: বাঁধন মৈত্র

প্রকাশ: 02 October, 2026, 03:05 PM

সাধারণ একটি গ্রামে বেড়ে ওঠা আমার। গ্রাম থেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু করি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। গ্রাম থেকে রাজশাহীতে এসে প্রথম দিকে একটু ইতস্তত বোধ করলেও পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিলাম।

আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু হয় ১ মার্চ ২০২০ সালে।

বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরুতে নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, পূর্ণ স্বাধীনতা, রাতের বেলা ঘোরাঘুরি, আড্ডা- জীবনে আনন্দ করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তার প্রায় সবকিছুই অল্প সময়ের মধ্যে হাতের নাগালে পেয়ে গিয়েছিলাম। সবকিছুই বেশ উপভোগ করছিলাম। হঠাৎ গ্রাম থেকে এসে শহরের এই রঙিন জীবন আমাকে ভীষণ কৌতূহলী করে তুলেছিল। পড়াশোনার চেয়ে বাইরের এই রঙিন জীবন নিয়েই আমার আগ্রহ বেশি কাজ করতে শুরু করেছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেই দেখতাম, প্রায় সব বন্ধুই প্রেম করে, বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে কথা বলে। কিন্তু দীর্ঘদিন পরিবারের সঙ্গে গ্রামে থাকার কারণে প্রেম সম্পর্কে আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কীভাবে একটা মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে হয়, মিশতে হয় কিংবা চলতে হয়, তা বুঝতাম না। তবে এ নিয়ে আমার কৌতূহলের শেষ ছিল না।

এরপর একদিন আমার এক বন্ধুর ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে নীল শাড়ি পরা একটি মেয়ের প্রোফাইল ছবি চোখে পড়ল। প্রথম দেখাতেই প্রোফাইলটি আমার ভালো লেগে গেল। তখন বন্ধুদের কথা মনে পড়ল। সবাই তো মেয়েদের সঙ্গে কথা বলে, আমিও একটু চেষ্টা করে দেখি, কথা বলে কেমন লাগে!

যেই ভাবা, সেই কাজ। মেয়েটিকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিলাম। রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরপরই মেসেঞ্জারে একটি মেসেজও পাঠালাম-

“হ্যালো, শুনছেন? একটু কথা বলা যাবে?”

ঘণ্টা দুয়েক পর মেয়েটি আমার রিকোয়েস্ট গ্রহণ করল এবং মেসেজের উত্তরে লিখল-

“হ্যাঁ, বলুন। কে আপনি? ঠিক চিনলাম না!”

মেসেজের উত্তর পেয়ে আমার তো হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার অবস্থা! জীবনে প্রথমবার কোনো অপরিচিত মেয়ের সঙ্গে কথা বলছি, তাও আবার ফেসবুকে! বিষয়টি ভাবতেই উত্তেজনা আর দুশ্চিন্তায় হাত-পায়ের তালু ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিল। তবু মনে মনে বেশ খুশি হচ্ছিলাম এই ভেবে যে, আজ থেকে আমিও একজন মেয়ের সঙ্গে কথা বলব।

এরপর আমি তাকে নিজের পরিচয় দিলাম, সেও আমাকে তার পরিচয় দিল।

মেয়েটির নাম ছিল সুপর্ণা ঘোষ। সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। আর আমি ছিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সমবয়সী হওয়ায় আমাদের মধ্যে কুশল বিনিময় করতে কিংবা একে অপরের সঙ্গে মিশতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।

সেই থেকে আমাদের নিয়মিত কথা হতে শুরু করল। ফেসবুকের মাধ্যমেই ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে একটি সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠল। সুপর্ণা খুবই নরম স্বভাবের মেয়ে ছিল। তার সঙ্গে কথা বলেই তা বুঝতে পেরেছিলাম। এভাবে এক-দুই মাস কথা বলতে বলতে আমাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়ে উঠল। আমরা দুজন দুজনকে ফোন নম্বর দিলাম। এমনকি সামনাসামনি দেখা করার পরিকল্পনাও করতে শুরু করলাম। তবে তখনো আমরা দুজন কেবল ভালো বন্ধুই ছিলাম।

হঠাৎ একদিন সুপর্ণা অনলাইনে এল না। তাকে অনলাইনে না পেয়ে তার ফোন নম্বরে কল দিলাম। কিন্তু ফোন বন্ধ পেলাম।

আমার চিন্তার শেষ ছিল না। হঠাৎ কী এমন হলো যে তার ফোন বন্ধ? কোথাও কোনো খোঁজ নেই, কিছু বলেও যায়নি! কিছুই ভালো লাগছিল না। বুঝতে পারছিলাম, সুপর্ণাকে মিস করতে শুরু করেছি। সকাল থেকে অন্তত একশবার কল দিয়েছিলাম, তবু একবারের জন্যও তার ফোন খোলা পাইনি।

সকাল থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত খাওয়া-দাওয়া বাদ দিয়ে শুধু তার কথাই ভেবেছি। কী হয়েছে তার? কেন ফোন বন্ধ?

রাত ৯টা ৭ মিনিটে হঠাৎ আমার ফোনে একটি মেসেজ এল। সুপর্ণার মেসেজ। সে লিখেছে-

“সাম্য, আজ আমার ফোনটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তাই সারাদিন অনলাইনে আসতে পারিনি।”

মেসেজটি দেখে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। এরপর তার সঙ্গে কথা হলো। আমি তাকে বেশ রাগ করেই বললাম, আমাকে না জানিয়ে এভাবে আর কখনো হারিয়ে গেলে সেদিন দেখবে, তোমার কী করি!

সেদিনই প্রথম বুঝতে পারলাম, আমি সুপর্ণাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তাকে ছাড়া আর এক মুহূর্তও ভালো লাগছিল না আমার।

এরপর একদিন সাহস করে সুপর্ণাকে বললাম-

“দেখো সুপর্ণা, তুমি আমার অনেক ভালো বন্ধু। তোমাকে ছাড়া আর এক মুহূর্তও একা থাকতে ভালো লাগছে না। আমি তোমার সঙ্গে আজীবন থাকতে চাই!”

সুপর্ণা মেসেজের উত্তরে লিখল-

“মানে? সেটা কীভাবে সম্ভব?”

আমি বললাম-

“সম্ভব। তুমি আমার বউ হলে অবশ্যই সম্ভব!”

আমার কথা শুনে সুপর্ণা প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিল। এরপর আমি তাকে বললাম, সত্যিই আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তাকে আমি আমার জীবনে চাই।

আগেই বলেছি, সুপর্ণা খুব নরম স্বভাবের একটি মেয়ে ছিল। সে আমার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে পারেনি। এই কয়েক মাসে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলতে তার মনেও আমার প্রতি একধরনের মায়া জন্মেছিল। তাই সুপর্ণাও আমার ভালোবাসার প্রস্তাবে সম্মতি জানাল।

এরপর শুরু হলো সাম্য-সুপর্ণার প্রেম।

আমাদের প্রেমজীবন বেশ ভালোই কাটছিল। প্রায় এক বছর আমরা চুটিয়ে প্রেম করলাম। ফোনেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা হতো আমাদের। এরই মধ্যে নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক অবস্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা- সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলাম। কত স্বপ্নই না দেখেছিলাম আমরা দুজন! অথচ তখন পর্যন্ত আমাদের একবারও সামনাসামনি দেখা হয়নি।

এই এক বছরে আমাদের পড়াশোনা তেমন একটা হয়নি।

হঠাৎ একদিন গ্রাম থেকে মা ফোন করে বললেন,
“তোর পড়াশোনা কত দূর এগোল, বাবা? সংসার যে আর চলে না! তুই কবে চাকরি পাবি, বাবা?”

মায়ের কথাগুলো আমার বুকে গিয়ে বিঁধল। তখন ভাবলাম, আসলেই তো! কত স্বপ্ন নিয়ে রাজশাহী শহরে এসেছিলাম! মন দিয়ে পড়াশোনা করব, চাকরির প্রস্তুতি নেব, নিজেকে একটি ভালো চাকরির জন্য তৈরি করব। তারপর চাকরি পেয়ে বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের সংসারের হাল ধরব, তাঁদের মুখে হাসি ফোটাব।

কিন্তু গত এক বছর তো আমি ঠিকমতো পড়াশোনাই করিনি! কোন সাগরে ডুবে গিয়েছিলাম আমি!

এরপর থেকে নিজের প্রতি একধরনের অপরাধবোধ কাজ করতে শুরু করল। মনে হতে লাগল, আমি অন্যায় করছি। আমার আসল কাজ তো এটা ছিল না!

ধীরে ধীরে সুপর্ণার সঙ্গে কথা বলতেও আর আগের মতো ভালো লাগত না। তার প্রতি আগের মতো অনুভূতিও কাজ করত না। নিজের ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলাম। সুপর্ণা বুঝতে পারছিল, আমি আর আগের মতো নেই। আমার নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে।

কিন্তু নিজের মুখে তাকে বলতে পারছিলাম না যে, এসব থেকে আমার মন সরে যাচ্ছে; আমি এখন পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দিতে চাই। কীভাবেই বা বলব? সুপর্ণার তো কোনো দোষ নেই! সে তো খুব ভালো একটি মেয়ে। তার কোনো কিছুরই কমতি নেই। ভদ্র, সভ্য, নরম স্বভাবের, পবিত্র মনের একটি মেয়ে সুপর্ণা। তাহলে কীভাবে আমি তাকে ঠকাব?

কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে একদিন রাতে সুপর্ণাকে বললাম-

“দেখো সুপর্ণা, আমি বেকার। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও তেমন ভালো নয়। আমি কবে চাকরি পাব, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। তুমি তোমার পরিবারের অনেক আদরের মেয়ে। তোমার পরিবার তোমাকে একজন ভালো চাকরিজীবী ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে চাইবে। দেখো, আমি এখন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ি। কবে চাকরি হবে, আর কবে তোমাকে বিয়ে করব, কিছুই জানি না। তাই বলছি, তোমার ভালোর জন্যই আমাদের সম্পর্কটা আর দীর্ঘ না করাই ভালো। তোমার পরিবারও আমার মতো বেকার ছেলেকে মেনে নেবে না।”

আমার কথা শুনে সুপর্ণা চিৎকার করে কেঁদে উঠল।

“তুমি এসব কী বলছ, সাম্য? আমাদের এত দিনের ভালোবাসা, এত দিনের স্বপ্ন- সবকিছু তুমি কীভাবে ভুলে যেতে পারো? চাকরির জন্য কি আমরা আলাদা হয়ে যাব? তুমি যেদিন চাকরি পাবে, সেদিনই আমাদের বিয়ে হবে। তার আগ পর্যন্ত আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব। আমার পরিবারকে মানানোর দায়িত্ব আমার। তুমি যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিনই আমাকে বিয়ে কোরো। তার জন্য যদি সারাজীবনও অপেক্ষা করতে হয়, তোমার হাতে সিঁদুর পরার আশায় আমি সারাজীবন অপেক্ষা করব। আমার পরিবারকেও বুঝিয়ে রাজি করাব। তবু, সাম্য, আমাদের সম্পর্ক শেষ করার কথা আর কখনো মুখে এনো না!”

সুপর্ণার কথাগুলো শুনে আমার খুব খারাপ লাগছিল। কিন্তু তখন আমার কাছে নিজের ক্যারিয়ারই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল। তাই তাকে আর কথা বাড়াতে দিলাম না।

আমি বললাম,
“তুমি আমার চেয়েও ভালো কাউকে পাবে, যে তোমাকে আমার চেয়ে অনেক ভালো রাখবে। তুমি অনেক সুখী হবে। তুমি খুব ভালো একটি মেয়ে। তোমার সঙ্গে আমার পথচলা এখানেই শেষ। হয়তো আমাদের আর কখনো দেখা হবে না।”

এই বলে আমি সুপর্ণাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিলাম।

ব্লক করার আগে সুপর্ণার পাঠানো শেষ মেসেজটি ছিল-

“সাম্য, তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। আমি তোমাকে ছাড়া একা থাকতে পারব না, সাম্য!”

সেদিন থেকেই সুপর্ণার সঙ্গে আমার সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটল।

আমি নতুন করে জীবন সাজাতে শুরু করলাম। পড়াশোনায় মনোযোগ দিলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স শেষ করে এখন ঢাকায় এসে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছি। মাস্টার্সের পাশাপাশি চাকরির প্রস্তুতি ভালোভাবে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য রাজশাহী থেকে ঢাকায় চলে আসাই ভালো হবে- এই ভেবেই আমার ঢাকায় আসা।

ঢাকায় আসার কিছুদিন পর পরিচয় হলো আরেকটি মেয়ের সঙ্গে। তার নাম লাবনী।

পরিচয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই লাবনীর সঙ্গে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠল। আমি তাকে ভীষণ ভালোবেসে ফেললাম। অল্প সময়ের মধ্যেই তার প্রতি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়লাম যে বাড়িতে তার কথা জানিয়ে দিলাম। লাবনীও আমাকে ভালোবাসত। সে-ও তার বাবা-মাকে জানিয়েছিল যে আমাকে বিয়ে করতে চায়।

লাবনীকে আমি কতটা ভালোবাসতাম, তা বলে বোঝানো কঠিন। তাকে আমি আমার সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছিলাম। তাকে না পেলে বাঁচব না- এমন অবস্থা হয়েছিল আমার। এতটাই ভালোবেসে ফেলেছিলাম তাকে।

তত দিনে আমার মাস্টার্স শেষ হওয়ার পথে। তাই লাবনীর পরিবারেরও আমার প্রতি একটা বিশ্বাস তৈরি হয়েছিল যে আমি ভবিষ্যতে কিছু একটা করতে পারব, প্রতিষ্ঠিত হতে পারব। তারাও আমাকে মেনে নিয়েছিলেন।

লাবনীর বোন, মা, বাবা- সবার সঙ্গেই মাঝেমধ্যে আমার কথা হতো। তাঁরাও আমাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যে আমার একটা চাকরি হয়ে গেলেই লাবনীকে আমার সঙ্গে বিয়ে দেবেন।

সেই আশাতেই অপেক্ষা করছিলাম আমি। কবে চাকরিটা পাব, আর কবে আমার লাবনীকে নিজের ঘরে বউ করে আনব!

এরই মধ্যে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় অংশ নিতে শুরু করলাম। কোথাও ব্যর্থ হলাম, কোথাও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করেও লিখিত পরীক্ষায় বাদ পড়লাম, আবার কোথাও ভাইভায় গিয়ে আটকে গেলাম। এভাবেই চলছিল চাকরি পেয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আমার নিরন্তর চেষ্টা।

এরই মধ্যে একদিন লাবনী আমাকে ফোন করল।

ফোন করে বলল,
“দেখো সাম্য, এভাবে আর কত দিন? আমার পরিবার আর অপেক্ষা করতে পারছে না। তোমার কবে চাকরি হবে, সেই আশায় তারা আর ভরসা পাচ্ছে না। আমি আর কত দিন তাদের বোঝাব? তারা আমার জন্য ছেলে দেখেছে। ছেলেটি ডাক্তার। তারা তার সঙ্গেই আমার বিয়ে দেবে।”

আমি বললাম,
“কিন্তু তোমার বাবা-মা তো সবই জানেন। আমার সঙ্গে তাঁদের কথাও হয়েছে। আমি তো চেষ্টা করছি। আর কয়টা দিন অপেক্ষা করো, লাবনী। আমি ঠিক একটা চাকরি জোগাড় করে ফেলব।”

লাবনী বলল,
“আর কত দিন? আমার পরিবারের পক্ষে আর অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। আর আমার পক্ষেও না। আমি বাবা-মায়ের পছন্দ করা ছেলেকেই বিয়ে করব।”

আমি তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলাম। এমনকি তার পায়ে পর্যন্ত ধরলাম, যেন সে আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে বিয়ে না করে। কিন্তু লাবনী কিছুতেই আমার কথা বুঝতে চাইল না। একসময় সে আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিল।

এরপর লাবনীর বোন, বাবা ও মাকে ফোন করে বোঝানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু কেউই আমার ফোন ধরলেন না। টানা তিন দিন অনেক চেষ্টা করেও লাবনী কিংবা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলাম না।

চার দিন পর, লাবনীর এক বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পারলাম, তার এক দিন আগেই সেই ডাক্তার ছেলেটির সঙ্গে লাবনীর বিয়ে হয়ে গেছে।

খবরটি শোনার পর আমি বিছানায় শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লাম। কাঁদতে কাঁদতে ভাবতে লাগলাম, আমি কী এমন অন্যায় করেছি যে আমার ভালোবাসাকে এভাবে ঠকিয়ে লাবনী অন্য কারও হাতে সিঁদুর পরতে পারল?

এসব ভাবতে ভাবতেই কান্নার মধ্যে লাবনীর সঙ্গে কাটানো পুরোনো স্মৃতিগুলো আরেকবার দেখার জন্য ফোন হাতে নিলাম। গ্যালারি খুলে ছবিগুলো দেখতে শুরু করলাম।

গ্যালারিতে একটু নিচের দিকে যেতেই এক কোণে একটি স্ক্রিনশট চোখে পড়ল।

স্ক্রিনশটটি ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা সুপর্ণার পাঠানো শেষ মেসেজের। সেখানে লেখা ছিল-

“সাম্য, তুমি আমাকে ছেড়ে যেয়ো না। আমি তোমাকে ছাড়া একা থাকতে পারব না, সাম্য!”

স্ক্রিনশটটি দেখে নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে অঝোরে জল ঝরতে শুরু করল। বিছানায় শুয়েই ফোনটি বুকের ওপর রেখে চোখ বন্ধ করলাম। মনে মনে শুধু একটি কথাই বলতে লাগলাম-

“হে ঈশ্বর, প্রকৃতি এভাবেও প্রতিশোধ নেয়? এভাবেও প্রতিশোধ নেয়?”

আমি সত্যিই অন্যায় করেছিলাম। আমার সুপর্ণার পবিত্র ভালোবাসার সঙ্গে অন্যায় করেছিলাম। আজ যা ঘটছে, তা যেন সেই অন্যায়েরই প্রতিফল। এই শাস্তি আমারই প্রাপ্য, আমারই প্রাপ্য!

“হে ঈশ্বর, পৃথিবীর সকল সুপর্ণাকে তুমি সুখী রেখো। আর সকল সাম্যকে তুমি এভাবেই তাদের প্রাপ্য শাস্তি বুঝিয়ে দিয়ো।”


রচনাকাল: ০১-১০-২০২৬ইং।

0 বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

মন্তব্য করছেন অতিথি পাঠক হিসেবে — নিজের নাম দিয়ে যুক্ত হতে চান?
এখনো কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন!
বাঁধন মৈত্র

বাঁধন মৈত্র-এর আরও লেখা (4 টি)

●
●
●
●
অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে আটক কিশোরের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার
সংবাদ • অপ্রতিম হত্যা: সিসিটিভি ফুটেজের সূত্রে আটক কিশোরের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার 20 September
চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বোয়ালখালী বৌদ্ধ যুব পরিষদের মতবিনিময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বোয়ালখালী বৌদ্ধ যুব পরিষদের মতবিনিময় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬ জারি, যা মানতে হবে প্রার্থীদের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬ জারি, যা মানতে হবে প্রার্থীদের বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্পেস একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা নাসার যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্পেস একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা নাসার পরিবেশ রক্ষায় কধুরখীল মারজিন বিহারে বৃক্ষরোপণ পরিবেশ রক্ষায় কধুরখীল মারজিন বিহারে বৃক্ষরোপণ অবকাঠামো উন্নয়ন মানেই শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন নয়: আজিজুল হক অবকাঠামো উন্নয়ন মানেই শিক্ষার প্রকৃত উন্নয়ন নয়: আজিজুল হক বোয়ালখালীতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবার পেল টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা বোয়ালখালীতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবার পেল টিন ও নগদ অর্থ সহায়তা ঐতিহ্যের টানে ইছামতি মাতৃমন্দিরে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ ঐতিহ্যের টানে ইছামতি মাতৃমন্দিরে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ও কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন দায়িত্ব বণ্টন সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ও কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রাখতে নতুন দায়িত্ব বণ্টন বোয়ালখালীতে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আবির্ভাব উৎসবে ভক্তদের মিলনমেলা, পরিদর্শনে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী বোয়ালখালীতে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আবির্ভাব উৎসবে ভক্তদের মিলনমেলা, পরিদর্শনে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠী

সংক্ষিপ্ত সংবাদ

বোয়ালখালীতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত
সংবাদ

বোয়ালখালীতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বিপ্লব দাস : বিশেষ প্রতিনিধি:

13 Sep
Mâinile (The Hands)
কবিতা

Mâinile (The Hands)

Mâinile tac, ascultă și fac… frământă fierul, modelează oțelul, rotesc secunde și doruri rotunde,...

12 Sep
তুমি থাকো বুকের বাম পাশে
ছোট গল্প

তুমি থাকো বুকের বাম পাশে

লাবণ্যকে আগের তুলনায় আজকে আরও ভীষণ সুন্দর লাগছে। পরনে পরেছে সে নীল জামা, বাহ্!...

10 Sep
একটি ছোট ঘর থেকে বিশ্বজয়: মার্ক জাকারবার্গ ও ফেসবুকের সাম্রাজ্য
কর্পোরেট

একটি ছোট ঘর থেকে বিশ্বজয়: মার্ক জাকারবার্গ ও ফেসবুকের সাম্রাজ্য

কখনো কখনো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো শুরু হয় খুব ছোট কোনো জায়গা থেকে- কোনো...

09 Sep
মেঘনাদবধ-[৪র্থ সর্গ]
মহাকাব্য

মেঘনাদবধ-[৪র্থ সর্গ]

নমি আমি, কবি-গুরু, তব পদাম্বুজে, বাল্মীকি! হে ভারতের শিরঃচূড়ামণি, তব অনুগামী দাস, রাজেন্দ্র-সঙ্গমে দীন...

09 Sep

কবিতা আবৃত্তি ও ভিডিও

লেখক তালিকা

বাংলাদেশ

আমার এলাকার খবর

খেলাধুলা

কলম্বোতে প্রথম দিনে ভারতের দাপট, আবারও সেঞ্চুরি করলেন পাড়িক্কাল

কলম্বোতে প্রথম দিনে ভারতের দাপট, আবারও সেঞ্চুরি করলেন পাড়িক্কাল

নারাওকাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম ফরাসি হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেন ল্যানিয়ের নারাওকাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম ফরাসি হিসেবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেন ল্যানিয়ের বিশ্বকাপের শেষ পুল ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলে হারলেও দৃঢ়তা দেখাল স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপের শেষ পুল ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ২-০ গোলে হারলেও দৃঢ়তা দেখাল স্কটল্যান্ড হকি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে স্কটল্যান্ড নারী দলের ২-১ গোলে দারুণ জয় হকি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে স্কটল্যান্ড নারী দলের ২-১ গোলে দারুণ জয় বেসবলের দ্রুততম শো-এর ভেতরে: ব্রুয়ার্স সেনসেশন জ্যাকব মিসিওরোস্কিকে দেখা কেমন অভিজ্ঞতা বেসবলের দ্রুততম শো-এর ভেতরে: ব্রুয়ার্স সেনসেশন জ্যাকব মিসিওরোস্কিকে দেখা কেমন অভিজ্ঞতা ডায়মন্ড লিগে ২০০ মিটারে দ্বিতীয় হলেন হান্ট, জিতলেন হোয়াইট ডায়মন্ড লিগে ২০০ মিটারে দ্বিতীয় হলেন হান্ট, জিতলেন হোয়াইট 'লাইফলাইন' খ্যাত পিং পং ভেন্যু সাময়িকভাবে আবার খুলল 'লাইফলাইন' খ্যাত পিং পং ভেন্যু সাময়িকভাবে আবার খুলল আমি লম্বা সময়ের জন্যই এসেছি- সাঁতারে বিশ্বমানের প্রমাণ দিলেন নোয়াকি আমি লম্বা সময়ের জন্যই এসেছি- সাঁতারে বিশ্বমানের প্রমাণ দিলেন নোয়াকি জুনিয়র প্যান প্যাসিফিক, চতুর্থ রাতের ফাইনাল: ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলেতে স্বর্ণ-রৌপ্য জয় আমেরিকার জুনিয়র প্যান প্যাসিফিক, চতুর্থ রাতের ফাইনাল: ২০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলেতে স্বর্ণ-রৌপ্য জয় আমেরিকার 'একটা কিনতে গিয়েছিলাম, তারপর নেশা ধরে গেল'- ৯০ দশকের রেসলিং খেলনা কেন এখনো এত জনপ্রিয় 'একটা কিনতে গিয়েছিলাম, তারপর নেশা ধরে গেল'- ৯০ দশকের রেসলিং খেলনা কেন এখনো এত জনপ্রিয় গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালস গ্র্যান্ড চেস ট্যুর ফাইনালস রেনির অল ব্ল্যাকস কি পারবে স্প্রিংবকদের আধিপত্য থামাতে? রেনির অল ব্ল্যাকস কি পারবে স্প্রিংবকদের আধিপত্য থামাতে? WXV গ্লোবাল সিরিজের ম্যাচ অফিসিয়ালদের নাম ঘোষণা করলো ওয়ার্ল্ড রাগবি WXV গ্লোবাল সিরিজের ম্যাচ অফিসিয়ালদের নাম ঘোষণা করলো ওয়ার্ল্ড রাগবি গলফ জিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের খোঁচা ট্রাম্পের, বললেন ‘এটাই ট্যালেন্ট’ গলফ জিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের খোঁচা ট্রাম্পের, বললেন ‘এটাই ট্যালেন্ট’ ফিফা বিশ্বকাপ: ফ্রান্সের জয়ে সেমিফাইনালে, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির পাশে এমবাপে ফিফা বিশ্বকাপ: ফ্রান্সের জয়ে সেমিফাইনালে, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির পাশে এমবাপে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে সুইজারল্যান্ড টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে সুইজারল্যান্ড

সকল পাঠকদের মন্তব্য

মতামত লোড হচ্ছে...

অন্যান্য

দুই বিঘা জমি
কবিতা

দুই বিঘা জমি

শুধু বিঘে দুই ছিল মোর ভুঁই আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, বুঝেছ উপেন,...

28 Aug
ভাঙ্গার গান
গান

ভাঙ্গার গান

কারার ওই লৌহ-কপাট, ভেঙে ফেল্ কররে লোপাট রক্ত-জমাট, শিকল-পূজার পাষাণ-বেদী। ওরে ও তরুণ ঈশান,...

27 Aug
অক্ষমা
কবিতা

অক্ষমা

যেখানে এসেছি আমি, আমি সেথাকার, দরিদ্র সন্তান আমি দীন ধরণীর। জন্মাবধি যা পেয়েছি সুখদুঃখভার...

27 Aug
দেশান্তরী
কবিতা

দেশান্তরী

প্রাণ-ধারণের বোঝাখানা বাঁধা পিঠের ‘পরে, আকাল পড়ল, দিন চলে না, চলল দেশান্তরে। দূর শহরে...

27 Aug
হিন্দুস্থান
কবিতা

হিন্দুস্থান

মোরে হিন্দুস্থান বারবার করেছে আহ্বান কোন্ শিশুকাল হতে পশ্চিমদিগন্ত-পানে ভারতের ভাগ্য যেথা নৃত্যলীলা করেছে...

27 Aug
অবর্জিত
কবিতা

অবর্জিত

আমি চলে গেলে ফেলে রেখে যাব পিছু চিরকাল মনে রাখিবে, এমন কিছু, মূঢ়তা করা...

27 Aug
হে যক্ষ সেদিন প্রেম তোমাদের
কবিতা

হে যক্ষ সেদিন প্রেম তোমাদের

হে যক্ষ, সেদিন প্রেম তোমাদের বৃদ্ধ ছিল আপনাতেই পদ্মকুঁড়ির মতো। সেদিন সংকীর্ণ সংসারে একান্তে...

27 Aug
আমাদের ছোট নদী
কবিতা

আমাদের ছোট নদী

আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে  বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে।  পার হয়ে...

27 Aug
সাইট চালুর পর থেকে মোট ভিজিটর: লোড হচ্ছে...

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন

নতুন একাউন্ট তৈরি করুন

আগেই একাউন্ট আছে? লগ ইন করুন
আরও পড়ুন নতুন পোস্ট পুরোনো পোস্ট
দৈনিক চালচিত্র
সাহিত্য বিভাগ
প্রবন্ধ ও নিবন্ধ
রম্যরচনা
কৌতুক
ভ্রমণ
বই পরিচিতি
উক্তি
লেখক তালিকা
অন্যান্য
দৈনিক চালচিত্র দৈনিক চালচিত্র
গোপনীয়তা নীতি  •  যোগাযোগ
© ২০১৯–২০২৬ দৈনিক চালচিত্র