এমন যদি কোনো একটা ব্যবস্থা থাকতো!
যেমন থাকে জাদুঘরে পুরনো দিনের তৈজসপত্র, ছবি, কারো যুদ্ধে ব্যবহৃত তলোয়ার, কোনো রাজাবাদশার পুরনো পোশাক-আশাক, প্রাচীনকালের মুদ্রা ইত্যাদি জমা রাখা হয় দর্শনার্থীদের দেখার জন্য!
তা সে বিনামূল্যেই হোক, কিংবা কোনো প্রদর্শনীর জন্য নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়েই হোক না কেন!
তাহলে আমি আমার শৈশবের সরলতার দিনগুলো ফিরে পেতে চাইতাম, তা সে যে কোনো মূল্যের বিনিময়েই হোক না!
সেইসব সোনালি অতীত দিনগুলো তো স্মৃতির অ্যাকাউন্টে জমা করা আছেই। ইচ্ছে করলেই আবারও মনে করতে পারি সবকিছুই, কিন্তু ধরতে পারি না। ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করে, কিন্তু সম্ভব হয় না ছোঁয়া!
সেই যে রাঙামাটির সবুজ পাহাড়ে ঘেরা কলোনির বাসায় থাকা, যার পাশেই খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীটা ছিল, ওর দুরন্ত বুকে কত যে সাঁতরেছি!
তারপর বনরূপা, কাঁঠালতলী বিদ্যালয়ে বাঁশের বেড়া ভেঙে পালিয়ে গিয়ে বন্ধু সুবিমল, অরুণাভ, শুভ্রজিৎ, ধ্রুবজ্যোতি, কমলজ্যোতি, দেবজ্যোতি, অজয়, সুবেশ - এদের সাথে ইন্দ্রপুরী সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যাওয়া, ওদের সাথে খেলা করা, বৃষ্টির মধ্যে স্কুলের ছুটি হতেই ছাতাটা বগলে নিয়েই দৌড়ে ভিজতে ভিজতে পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা লাল রঙের ইটের রাস্তা ধরে ফরেস্ট কলোনির বাসায় ফিরে আসা - আহা!
কী ভীষণ সুন্দর, কবিতার মতো ছিল আমার সেইসব দিনগুলো!
আজকে শুধু আমার শৈশবের স্মৃতির অ্যাকাউন্ট থেকে রাঙামাটির কথাই বলতে ইচ্ছে করছে, খুব বেশি মনে পড়ছে রাঙামাটির দিনগুলো!
[বি.দ্র. লেখাটা আমার রাঙামাটির সকল বন্ধুদেরকে উৎসর্গ করলাম।]
রচনাকাল: ০৪-০৮-২০২৬ ইং।
মন্তব্য করুন