অনেক রাত হলে মনে হয়
এই পৃথিবী যেন কার্তিকের মাঠে পড়ে থাকা
একটি শিশিরবিন্দু মাত্র,
তার চারদিকে অগণন নক্ষত্রের শীতল আগুন,
অন্ধকার, আরও অন্ধকার।
আমি তারও ভিতরে -
ঘাসের ডগায় কেঁপে ওঠা এক বিন্দু জলের মতো,
একদিন রৌদ্রে শুকিয়ে যাবো।
তবু কত দূরের নক্ষত্রের দিকে চেয়ে থাকি!
যে আলোর জন্ম হয়েছিল
আমার জন্মেরও বহু পূর্বে,
পৃথিবীর প্রাচীন বনভূমির পূর্বে,
নদীর প্রথম স্রোতেরও পূর্বে,
সে আলো এসে আজ আমার চোখে পড়ে।
আমি জানালার ধারে বসে ভাবি,
কত অদ্ভুত এই বেঁচে থাকা।
এই মহাবিশ্ব জানে না আমার নাম,
জানে না আমার বিষণ্ণতা,
আমার ভালোবাসা,
আমার নীরব সন্ধ্যাগুলোর কথা।
তবু শীতের কুয়াশায় একা দাঁড়িয়ে থাকা গাছ দেখে
আমার মন খারাপ হয়।
দূরের কোনো পাখির ডাক শুনে
মনে হয়,
পৃথিবীকে ছেড়ে যাওয়া এত সহজ নয়।
আমরা কত ক্ষুদ্র!
অন্ধকারের ভিতর উড়ে যাওয়া
একটি নিশি পাখির ডানার শব্দেরও ক্ষুদ্র,
তবু এই ক্ষুদ্র বুকের ভিতর
কত আকাশ ধরে রাখি!
একদিন আমি থাকব না,
এই হাত, এই চোখ,
এই সামান্য দুঃখ, এই সামান্য মায়া
সবই ধুলোর মতো ঝরে যাবে।
তবু নক্ষত্রেরা জ্বলবে,
হেমন্তের মাঠে শিশির পড়বে।
কোনো নির্জন রাতে
আরেকজন মানুষ আকাশের দিকে চেয়ে
হয়তো আমার মতোই ভাববে -
এত বিশাল এই ব্রহ্মাণ্ডে
আমরা কেবল ক্ষণিকের পথিক,
তবু এই ক্ষণিক সময়ের মধ্যেই
আমরা নক্ষত্রের কথা ভাবি,
মৃত মানুষের কথা ভাবি,
একটি পাখির জন্যও মায়া অনুভব করি।
হয়তো এই কারণেই
আমাদের এই তুচ্ছ জীবনও
অসীম অন্ধকারের কাছে
একটুখানি আলো হয়ে থাকে।
প্রকাশকাল: ১৮-০৭-২০২৬ ইং।
মন্তব্য করুন