আয়াতুল্লাহ উজমা খামেনি আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হাফেজ ও ক্বারিদের এক সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্যটি করেছিলেন।
তিনি সমাবেশে ঐদিন বলেছিলেন, পবিত্র আল-কোরআন পৃথিবীতে সম্মান-মর্যাদা, কল্যাণ, উন্নয়ন, শক্তি-সামর্থ্য, সংহতি ও সুন্দর জীবন ব্যবস্থা এবং পরকালের সুখ-শান্তির ক্ষেত্র প্রস্তুতকারী হিসেবে কাজ করে।
কিন্তু বর্তমানে কোনো কোনো মুসলিম দেশের শীর্ষ নেতা সিরিয়া ও ইয়েমেন যুদ্ধের মতো সংঘাত এবং মুসলমান হত্যার ক্ষেত্র তৈরির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন, বলেছিলেন ইরানের উক্ত নেতা।
এছাড়াও তিনি আরও বলেছিলেন, কয়েকটি মুসলিম দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দালালি করছে। (সুত্র: পার্সটুডে)
"ইসলাম একটি পবিত্র ধর্ম, এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে" একথাটি বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভানেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়৷
ঐসময় ভারতে চলছিল লোকসভা নির্বাচন। প্রথম ধাপে বেশ কিছু জায়গাতে ভোট নেয়া হয়ে গেলেও সেখানে তখনও বাকি ছিল আরও ছয় ছয়টি ধাপ। ফলে তুমুল বেগে চলছিল নির্বাচনী প্রচারণা। এদিক থেকে পিছিয়ে ছিল না পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলরাও।
সেদিন বালুরঘাট কেন্দ্রের প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের হয়ে কোন একদিন মঙ্গলবার ইটাহার ও বুনিয়াদপুরে সভা করছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
ইটাহারের জনসভায় মমতা যেমন তৃণমূল সরকারের কাজের খতিয়ান ও উন্নয়ন তুলে ধরেছিলেন, তেমনি বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি সরকারের সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন,
"দেশকে রক্ষা করতে হলে দিল্লির সরকারকে বদলে দিন৷"
ঐদিন মঙ্গলবার ইটাহারে এমনই এক নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন,
"ইসলাম ধর্ম পবিত্র ধর্ম, এটা সকলেরই মাথায় রাখতে হবে। ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের ভাগাভাগি চলবে না। তৃণমূলকে ভোট দিন। কারণ বিজেপি বলছে, তারা বাংলাতেও নাগরিকত্ব বিল করবে। এটা কী জানেন? পাঁচ বছরের জন্য আপনাকে বিদেশী করে দেবে৷ তারপর কী গ্যারান্টি আছে যে আপনি নাগরিকত্ব ফিরে পাবেন। তারা দাবি করছে, এনআরসি করবে। আর আমি তাদেরকে বলেছি আগে 'এন' শব্দটা ছুঁয়ে দেখুন, তারপর 'আরসি' করতে আসবেন।"
বাংলার ব্যাপারে তিনি আরও বলেছিলেন,
"নিজের জীবন বাজি রাখতে রাজি, কিন্তু ভাগাভাগি চলবে না। কারণ বাংলার সংস্কৃতি এটি নয়।"
মুসলমানদের ব্যাপারে তিনি স্পষ্টভাষায় বলেছিলেন,
"ইসলাম ধর্ম পবিত্র ধর্ম এটা মাথায় রাখতে হবে। ধর্মের নামে কোনো ভাগাভাগি চলবে না। হিন্দু, ইসলাম, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন ধর্ম থাকবে, তবেই তো দেশ।"
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তিনি ঐদিন এটাও বলেছিলেন,
"ওদের এত বড় সাহস যে নিজেদের মতো আইন করে বলবে কে কোথায় থাকবে, কে কোথায় থাকবে না? এত সাহস ওদের, ভাবছে যে শুধু ওরা থাকবে, আর বাকিদের বের করে দেবে! এইসব বরদাস্ত করা হবে না।"
বিজেপি দলিত, কৃষকসহ সকলের উপর অত্যাচার করেছে উল্লেখ করে সেদিন তিনি আরও বলেছিলেন,
"এই সরকারের আর প্রয়োজন নেই। ২০১৯ইং সালেই ফিনিশ হবে বিজেপি।"
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে দেশপ্রিয় পার্কে দেয়া এক ভাষণে তিনি সরাসরি বিজেপি বা সঙ্ঘ পরিবারের নাম উচ্চারণ না করে বলেছিলেন,
"একশ্রেণির মানুষ নিজের মতো করেই করে অমানবিক,"
দানবিক ও পাশবিক ধর্ম তৈরি করে দেশের ইতিহাস বদলে দিতে চাইছে। অবশ্য দু’দিন আগেই তিনি বিজেপি, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ অশান্তির আগুন জ্বালছে বলে অভিযোগ করেছিলেন।
এ বার বাংলার মানুষকে এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন,
"যে কাশ্মীরি শালওয়ালা রোজ এসে শাল দিয়ে যান, হঠাৎ তাকে দরজা থেকে বের করে দেব? যে চিকিৎসক ২০বছর ধরে এখানে চিকিৎসা করছেন, হঠাৎ করে তার উপর হামলা হবে কেন? কারা এত লাটসাহেবী করেন?"
পুলওয়ামার ওই হামলার পর পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের নানা প্রান্তে যেভাবে ‘দেশপ্রেমের নামে’ মানুষকে হুমকি দেয়া, মারধর ও গোলমালের ঘটনা ঘটছে, তা কড়া হাতে মোকাবিলায় প্রশাসনকে আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন,
"এ রাজ্যের শিক্ষা, সংস্কৃতি বাঁচাতে হলে সকলকে দৃঢ়চেতা হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।"
তিনি বলেন,
"চাই ভারত এক থাকুক। ভারত মাথা তুলে দাঁড়াক। ভারত উগ্রপন্থার দেশ হতে পারে না।
ভারত চিরকালই তেজস্বী। সব ধর্ম, ভাষার মানুষকে আপন করে নিতে হবে। সকলকে ভালবাসতে হবে। যারা এখানে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা করছেন, ওদের কখনই মেনে নিতে পারি না। তাই তারা প্রত্যাঘাত শুরু করেছেন। অথচ অনেকে একেই পূর্ণ সমর্থন করছি। যারা এর বিরোধিতা করছেন, তারাই আসল দেশদ্রোহী। তাদের ডান্ডা মারা উচিত।"
তখনকার গত বৃহস্পতিবার আবারও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র জৈন কলকাতায় এসে তিনি বলেছিলেন,
"পুলওয়ামার ঘটনার পর সাধারণ মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে।"
তার এ মন্তব্যটিকে সমর্থন করেছিল রাজ্য বিজেপি। কিন্তু তৃণমূলের মতোই সিপিএম ও কংগ্রেস এক সুরে এ ধরনের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছিল।
অন্যদিকে ভিএইচপি নেতা সুরেন্দ্র কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেছিলেন,
"সেনার উপর হামলাকারী কাশ্মিরি, রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারীরা এ রাজ্যে আশ্রয় পাচ্ছেন। এটাই মমতার তোষণের রাজনীতি।"
ঐদিন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছিলেন,
"স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন বা ছিলেন, তাদের মুখে এখন দেশপ্রেমের খই ফুটছে।"
ভিএইচপি’র এমন মন্তব্যের নিন্দা করে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তিনি বলেছিলেন,
"ভিএইচপির থেকে কেউ দেশপ্রেম শিখবে না। দেশপ্রেমের নামে ওরা দাঙ্গা বাধায়। সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করে। ওদের থেকে দেশপ্রেম শিখব না।"
"যারা দেশের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছেন, দেশেরই মানুষকে মারার কথা বলছেন এবং জওয়ানদের মৃত্যুকে ব্যবহার করে ভোটে জেতার চেষ্টা করছেন, তারাই তো প্রকৃত দেশদ্রোহী।"
কংগ্রেসের আরেক শীর্ষ নেতা আব্দুল মান্নানের মন্তব্যটি ছিল এরকম,
"ব্রিটিশ আমলে যারা চরবৃত্তি করে পুরস্কার পেয়েছিল, তাদের কাছ থেকে দেশপ্রেম শিখব না। তারা পাকিস্তানকে শিক্ষা দিতে না পেরে দেশের মানুষকে মারছেন। তারাই তো দেশদ্রোহী।"
(তথ্য সূত্র: আন্তর্জাতিক হোমপেজ৷)
সংগৃহীত লেখকঃ শামীম নিমু

0 মন্তব্যসমূহ