ভূমিকা | আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভূমিকা | এম এল আর বিপ্লব



ভূমিকা:
আগে আলেমদের ইতিহাস জানুন পরে অবদান খুঁজুন!

এক মহিন ব্যক্তির বক্তব্য, "বিগত ৫০০ বছরের মধ্যে মাত্র ১ জন আলেম বা মাওলানা বা মুফতির নাম বলুন যে কিনা মানুষের জন্য উল্লেখযাগ্য কোন অবদান রেখে গেছেন"৷ উনার পোস্টটি দেখে আমি অনেকক্ষণ মনে মনে হেসেছি! আর ভেবেছি নৈতিক স্খলন বা অধঃপতন কতটা হলে একজন মানুষ এমনটা বলতে পারেন৷ তাই নৈতিক তাড়না থেকে কিছু কালজয়ী আলেম উলামার সারসংক্ষেপ তুলে ধরতে হলো৷

বিগত ৫০০ বছরের বিশ্বকোষে বিশ্ব স্বীকৃত হাজার হাজার আলেম উলামাদের অবিস্মরণীয় অবদানের মধ্য থেকে মাত্র ২০০ বছরের ইতহাসের অংশবিশেষ খুঁড়ে কিছু কিছু আলেম উলামাদের অবদান দিলাম৷ যাতে উনার দিব্যদৃষ্টি উন্মোচিত হয়৷

উনার দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আমি কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলাম৷ মাঝে মাঝে ভাবতাম উনি মনে হয় নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি আলেমের সমালোচক৷ কিন্তু না, উনিই প্রমাণ করে দিয়েছেন উনি আসলে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির বৈরী নন, উনি গোটা আলেম সমাজের উপর চরম নাখোশ!

কোন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক বা অমুসলিমও কখনো উনার শত ভাগের একভাগ বিষেদাগার করার দুঃসাহস করেছে বলে নজরে পড়েনি৷ তথাপি উনার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে হেদায়েতের দোয়া রেখে গেলাম৷

সেই সাথে এটাও বলে গেলাম দু একজন বিতর্কিত আলেম উলামার জন্য গোটা আলেম সমাজকে যারা হেয় করে অবমাননা করে তাদের জন্য করুণা বৈ কিছু নেই৷

যাই হোক, ৫০০ বছর নয়, গতকাল থেকে মানে বৃটিশ ঔপনিবেশ থেকে শুরু করে মাত্র ২০০ বৎসরের আলেম উলামা ও ইসলামী স্কলারদের ইতিহাসের ভাণ্ড থেকে মাত্র গুটি কয়েকের নাম তুলে ধরলাম৷ বিশ্বকোষে যাদের নাম সযতনে লিপিবদ্ধ ও স্বীকৃত৷ পুরো ডাইনেস্টি যদি দিতে হয় তবে আরেকটি ইতিহাস লিখতে হবে৷

আব্বাস আলী খান বলেছিলেন,
"ইতিহাস একটা জাতির মধ্যে জীবনীশক্তির সঞ্চার করে, কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার অতীত ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে হবে অথবা বিকৃত করে পেশ করতে হবে।"

একজন তথাকথিত মুসলমান যদি ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারনা লাভের সুযোগ না পায় এবং তার জাতির অতীত ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে,তাহলে তার মুখ থেকে এমন সব মুসলিম ও ইসলাম বিরুধি কথা বেরুবে যেসব কথা একজন অমুসলমান মুখ থেকে বের করতে সাত পাঁচ ভাববে। এ ধরণের হস্তিমূর্খ মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে এবং মুসলমানদের জাতশত্রুগন তাদেরকে বরমাল্যে বরণ করছে।

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয়া পৃথিবী ও তার মধ্যকার সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ নবী কারীম (সা.) হিজরতের পর মদীনার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম গঠণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

উপমহাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে '৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামসহ সকল সশস্ত্র সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকাঃ

বাংলাদেশ পর্বপর্ব:
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা:

এক.
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী: (১৮৮০-১৯৭৬) বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির জরিপে ৯ নম্বরে উনার অবস্থান৷
যিনি বিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম তৃণমূল রাজনীতিবিদ ও গণআন্দোলনের মহানায়ক৷

ছয় দশক ধরে অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বাংলার মানুষের মন জয় করেছিলেন মওলানা ভাসানী। তাঁর আন্দোলন ছিল সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা ও সামন্তবাদের বিরুদ্ধে।

যিনি জীবদ্দশায় ১৯৪৭-এ সৃষ্ট পাকিস্তান ও ১৯৭১-এ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে “মজলুম জননেতা” হিসাবে সমধিক পরিচিত। ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায়ও তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি মাওপন্থী কম্যুনিস্ট তথা বামধারার রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তার অনুসারীরা অনেকে এজন্য তাকে "লাল মওলানা" নামেও ডাকতেন। তিনি কৃষকদের জন্য পূর্ব পাকিস্তান কৃষক পার্টির করা জন্য সারাদেশব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা। তিনি পঞ্চাশের দশকেই নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ একটি অচল রাষ্ট্রকাঠামো। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দের কাগমারী সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকদের “আস্ সালামু আলাইকুম” বলে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতার ঐতিহাসিক ঘণ্টা বাজিয়েছিলেন।

১৯৬৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে বিশাল জনসভায় মাওলানা ভাষানী তাঁর ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি না দিলে দেশে ‘ফরাসী বিপ্লব’ করার হুমকি দান।

বিঃদ্রঃ: আজ যারা আলেম উলমা ও মাওলানা বিরোধী স্লোগান যারা দিচ্ছে তারা মূলত আওয়ামিলীগ বিরোধী, কারন আওয়ামিলীগের প্রতিষ্ঠাতাই একজন মাওলানা, আলেম৷

মাওঃ আব্দুল হামিদ খান ভাষানী শুধু আওয়ামিলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন যে তা নয়, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামানের রাজনৈতিক গুরুও ছিলেন বঙ্গবন্ধু ছিলেন তার রাজনৈতিক ছাত্র।

শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখেন মাওঃ ভাষানী এর হাত ধরে৷ মাওঃ ভাষানী, মাওঃ ও শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) এর পরামর্শ ছাড়া শেখ মুজিব এক কদমও অগ্রসর হতেন না।

আওয়ামিলীগ প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম-লীগ থেকে,আর এ দলের সূচনা হয় পাকিস্তানী তাবেদার সরকারের হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

দুই.
মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ: (২৭ নভেম্বর ১৯০০ - ২০ আগস্ট ১৯৮৬)

ভারত উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ। তিনি আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সভাপতি ও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে আশির দশকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অবধি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, ভাষা সৈনিক ও সলঙ্গা বিদ্রোহের নেতা হলেন মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ৷ ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তার নেতৃত্বে বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলনে সলঙ্গা হাটে বিট্রিশ পুলিশের গুলিতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লোক হতাহত হয়। ১৯৫২ সালে তার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন হয়। ১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে রাষ্ট্রীয় ভাষা বাংলার দাবিতে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তব্য দেন। এ ছাড়া তিনি কৃষক আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলনসহ দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে সকল মুক্তির আন্দোলনে সামনে থেকে জাতির অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থেকেছেন।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি প্রথম মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ ও একে বিজ্ঞানসম্মত রূপদান করেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু৷

অতএব, আলেম ওলামা বা মাওলানাদের অবদান খোঁজার আগে তাদের অঙুলী করার আগে তাদের বিরুদ্ধে দিনরাত কলমের খোচাখুচি ও স্লোগান দেয়ার আগে, আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠার ইতিহাসটা জেনে নিও৷

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

তিন.
মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী: (১৮৯৬-১৯৬৯)
একজন মহান শিক্ষাবিদ, সুফি ও সমাজসংস্কারক। তাঁর পূর্বপুরুষগণ প্রায় তিনশ বছর পূর্বে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আরব থেকে বাংলায় আসেন। তাঁর পিতা মুন্সি আব্দুল্লাহ্ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে এবং পিতামহ চেরাগ আলী সৈয়দ আহম্মদ বেরেলভির সঙ্গে শিখ-ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

শামসুল হক ১৯২০ সালে কলকাতা মাদ্রাসা থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কয়েক বছর পর সাহারানপুর মাদ্রাসা থেকে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণ করেন। মাওলানা থানভীর নিকট তিনি ইলমে তাসাউফ শিক্ষালাভ করেন। পরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনুসিয়া মাদ্রাসা (১৯৩০-৩৫) এবং বড় কাটরার আশরাফুল-উলম মাদ্রাসায় (১৯৩৬-৫০) হাদিস শিক্ষা দেন।

শামসুল হক আজীবন সমাজসেবা ও সমাজসংস্কারমূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ‘লালবাগ আমি’আ কুরআনিয়া আরবিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল (১৯৫০-৬৮) ছিলেন। ইসলামি আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি ‘খাদেমুল-ইসলাম জমা‘আত’ (১৯৪০) এবং খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রতিরোধ কল্পে ‘আঞ্জুমান-ই-তাবলিগু‘ল-কুরআন’

(কুরআন প্রচার সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ইসলামি গবেষণাগার ‘ইদারাতু‘ল-মা‘আরিফ’ প্রতিষ্ঠা তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য কাজ।

শামসুল হক শতাধিক পুস্তক রচনা ও অনুবাদ করেন। সেগুলির মধ্যে হক্কানী তফসীর, জীবনের পরিচয়, চরিত্র গঠন, বেহেশতী জেওর, তবলীগে দ্বীন, বুখারী শরীফ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য৷

বিঃদ্র: মাওঃ শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) ও মাওঃ ভাষানীর পরামর্শ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমান এক কদমও অগ্রসর হতেন না।

আজ যারা মুজিব কোট পড়ে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছ, তোমরা কি জান মুজিব-কোট টা কে দিয়েছিল?

এই সেই মুজিব কোট, ৬৯ এর নির্বাচনে বিপুল ভোটে আওয়ামিলীগ বিজয় হয়ে শেখ মুজিব পার্লামেন্টে যাওয়ার সময় মাওঃ শামসুল হক ফরিদপুরী (রহঃ) এর কাছে গিয়ে ছিলেন দোয়া চাওয়ার জন্য।

তখন শেখ মুজিবুর রহমিন ফরিদপুরী (রহঃ) গায়ে কোট দেখে বলেছিল যে, হুজুর কোটটি আপনাকে অনেক মানিয়েছে, তখন খুশি হয়ে ফরিদপুরী (রহঃ) কোটটি দিয়ে বলেছিলেন, যাও এটা তুমি গায়ে দিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যাও, এটাই আমার দোয়া।

শেখ মুজিবর রহমান খুশি মনে সেই কোট পরে তখন পাকিস্তানের পার্লামেন্টে গিয়েছিলেন৷ সেদিনের সেই কোটটি আজকের মুজিবকোট৷

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

চার.
মাওলানা শামছুল হুদা পাঁচবাগী: (১৮৯৭– ১৯৮৮)
বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলেম ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি বঙ্গীয় আইনসভার সদস্যও ছিলেন।

উপমহাদেশের রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ, বাংলার প্রথম স্বাধীনতাকামী রাজবন্দী (জাতীয় সংসদে স্বীকৃত) ইংরেজ শাসনাধীন ভারতে মুসলমানদের ক্ষয়িষ্ণু অবস্থান দৃষ্টিভঙ্গির পশ্চাৎপদতা সাংস্কৃতিক অবক্ষয়ে তিনি নতুন জীবনদৃষ্টি নির্মাণে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।

উপমহাদেশে মুসলিম জাতিসত্ত্বার প্রবক্তা। উনবিংশ শতাব্দীর প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাসংস্কারক, সমাজহিতৈষী, চির সংগ্রামী-বিপ্লবী, আধ্যাত্মিক রাহবার ও মুজাদ্দিদ।

তিনি একাধারে আলেমেদ্বীন, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তীক্ষ্ণমেধাবী লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ।

তিনি ছিলেন জাতির দূর্দিনের মুক্তির কাণ্ডারী, আলোর দিশারী ও তাঁর কালের আলোকিত মানুষ।

১৯৪৭ সালে ইংরেজরা ভারত-পাকিস্তান ভাগ করে চলে যাওয়ার সময় যখন নেতারা একটা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রাপ্তির সাফল্যে সন্তুষ্ট, তখন একজন আলেম পূর্ব-পশ্চিমের এ সংযুক্ত বিভাগকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি প্রকাশ্যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করতে থাকেন এবং এ ভুখ-ের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবী তোলেন। তিনি হলেন মাওলানা মুহাম্মদ শামছুল হুদা পাঁচবাগী। যিনি পাকিস্তান প্রস্তাব (১৯৪৩)-বিরোধী এবং স্বাধীন বাংলার প্রবক্তা ছিলেন। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক ভারত বিভাগের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তদানীন্তন বাংলার প্রধানমন্ত্রী শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সেক্রেটারি মৌলভী আবুল হাশেম, বেঙ্গল কংগ্রেস পার্লমেন্টারি পার্টির নেতা কিরণ শংকর রায় প্রমুখ স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার আওয়াজ তোলেন। কিন্তু সেই দাবি কংগ্রেসের সমর্থন লাভ করেনি এবং গোটা বাংলা-আসামকে পাকিস্তানভুক্ত করার যে দাবি মুসলিম লীগের ছিল, তাও ব্রিটিশ গভর্নমেন্ট মেনে নেয়নি। হাশেম-সোহরাওয়ার্দী এবং কিরণ শংকরের স্বাধীন বাংলার দাবির বেশ আগেই মাওলানা পাঁচবাগী তাঁর প্রচারপত্রের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলা কায়েমের দাবি পেশ করেছিলেন। এ নিরিখে তাঁকে বৃহত্তর স্বাধীন বাংলার সর্বপ্রথম দাবিদার বা স্বপ্নদ্রষ্টা বলা চলে।

১৯৭০-৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ আন্দোলনের সময় মাওলানা পাঁচবাগী মুক্তিকামী জনগণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করেন। পাকবাহিনীর হাত থেকে অনেকের জীবন রক্ষা করেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস তিনি তাঁর বাড়ি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার হিন্দু পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। গফরগাঁও এবং কিশোরগঞ্জের মানুষের মুখে মুখে এখনও যা কিংবদন্তী হয়ে আছে।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

পাঁচ.
শহীদ মাওলানা অলিউর রহমান:
‘অমর বুদ্ধিজীবী মাওলানা অলিউর রহমান যিনি ছিলেন ধর্মমন্ত্রণালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনিই প্রথম ষাটের দশকে ‘স্বতন্ত্র ধর্মদপ্তর’ একটি জাতীয় প্রয়োজন’বই লিখে বহুকাঙ্খিত স্বপ্নের জানান দেন। তিনিই অসংখ্য আলেম-ওলামার মধ্য থেকে বের হয়ে এসে বীরবিক্রমে স্বাধীনতার ও স্বাধিকারের স্বপক্ষে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনিই একমাত্র আলেম, যিনি ‘শরিয়তের দৃষ্টিতে ৬ দফা’ বই লিখে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

মুক্তিযুদ্ধের কিংবদন্তি চিন্তাশীল দার্শনিক শহীদ বুদ্ধিজীবী মাওলানা অলিউর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সঙ্গী, আওয়ামী ওলামা পাটির প্রতিষ্টা সভাপতি ও ৭১এর স্বাধীকার আন্দোলনের কিংবদন্তির নায়ক। স্রোত পরিবেশের বিপরীত তিনি বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনা সংগ্রামকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যেভাবে কাজ করে গেছেন ইতিহাসে তা বিরল ঘটনা। নিঃস্বার্থ বঙ্গবন্ধু প্রতির নজিরবিহীন ঘটনা। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠিত করার তিনি একজন মহান চিন্তক।

একজন আলেম হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে এমন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদান সহ্য হয়নি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের। এই আলেমকে তারা কালো রাতে নির্মমভাবে হত্যা করে। এদেশকে মেধাশূন্য করারও দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকরার মিশনে নেমেছিল বর্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী৷

সেই বুদ্ধিজীবী হত্যার নির্মমতার শিকার হন মাওলানা শহীদ অলিউর রহমান, শায়খুল হাদিস আল্লামা শহীদ দানেশ রহ.- সহ অনেক আলেম উলামাও রয়েছেন। কিন্তু কোন অপরাধে মুক্তিযুদ্ধের জন্য অসামান্য অবদান রাখার পরেও এসব আলেম বুদ্ধিজীবীদের নাম নেই শহীদ বুদ্ধিজীবী তালিকায়৷ তারা আজ ইতিহাসের অস্তাচলে৷

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

ছয়.
মুফতী আমীমুল ইহসান: (১৯১১—১৯৭৪)
মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান বারকাতী (রহ.)। তিনি ছিলেন দেশের একজন প্রাজ্ঞ আলেম, বহু গ্রন্থ প্রণেতা, কর্মবীর ও বাংলার এক অতুলনীয় মনীষা ও জ্ঞানতাপস৷

তিনি মাওলানা মুহাম্মাদ আলী আল-কাদেরি আল মোজাদ্দেদি আল মুংগেরী রহ. এর একজন খলিফা ছিলেন। তার বংশ-তালিকা নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে তার পূর্ব-পুরুষগণ নামের পূর্বে ‘সাইয়্যেদ’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।

১৯৭১ সালে মুফতী আমীমুল ইহসান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ফতওয়া দিয়েছিলেন। ফলে ইয়াহিয়া সরকার তাঁকে জোর করে সৌদিআরব পাঠিয়ে দেয়। দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি বাংলাদেশে ফিরে এলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব হিসেবে নিযুক্ত করেন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

সাত.
মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর: (১৮৯৫-১৯৮৭)
যিনি হাফেজ্জী হুজুর নামে প্রসিদ্ধ ও পরিচিত৷ একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরমধ্যে ১৯৮১ সালের নির্বাচনে ১.৭৯% ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং ১৯৮৬ সালে ৫.৬৯% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন।

১৯৭১ সালে মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে এদেশের মজলুমদের এগিয়ে আসতে জাতির উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছিলেন- ‘এ যুদ্ধ ইসলাম আর কুফুরের যুদ্ধ নয়, এটা জালেম আর মজলুমের যুদ্ধ- পাকিস্তানিরা জালেম’। এ দেশের নিরীহ মানুষ ছিল মজলুম। সুস্থ বিবেক সম্পন্ন কোনো মানুষ জালেমের পক্ষাবলম্বন করতে পারে না। মজলুমকে সাহায্য করা, তার পক্ষে কথা বলা এটাই বিবেকের দাবি।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

আট.
মাওলানা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী:
১৯৭১ সালে মাওলানা এমদাদুল হক আড়াইহাজারী যিনি সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি বলেন- ‘আমি তখন হাফেজ্জী হুজুর এবং শায়খুল হাদীস মাওলানা আজিজুল হকের ছাত্র, লালবাগে পড়ি, যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার পর মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেল। আমরা বড় ছাত্ররা হাফেজ্জী হুজুরকে জিজ্ঞেস করলাম আমাদের ভুমিকা কী হতে পারে এই যুদ্ধে? হুজুর বললেন- অবশ্যই জালেমদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আমি হুজুরকে জিজ্ঞেস করলাম-আমি কি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারবো? হুজুর বললেন –‘অবশ্যই যেতে পার’। অত:পর আমি গেরিলা প্রশিক্ষণে ভর্তি হয়ে যাই এবং যুদ্ধে অংশ নেই।

এমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছিলেন আলেম সমাজের একটি বড় অংশ। প্রমান করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষাবলন বাংলাদেশীদের একান্ত প্রয়োজন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

নয় ও দশ.
মাওলানা উবায়দুল্লাহ জালালাবাদী ও মাওলানা আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী:
সিলেটের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা আলেম সহোদর আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী এবং মাওলানা উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী৷

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ঐতিহাসক ৬দফা দাবি উত্থাপন করেন তখন থেকেই বঙ্গবন্ধুর সাথে সংগ্রামের পথে পথ চলা শুরু হয় মাওলানা উবায়দুল্লাহ বিন সাঈদ জালালাবাদী’র। শেখ মুজিব ৬দফা দাবি উপস্থাপনের পর অনেকেই সেটাকে ইসলাম বিরোধী আখ্যায়িত করে এর বিরোধিতা শুরু করে। তখন মাওলানা জালালাবাদীই প্রথম ৬দফার পক্ষে প্রকাশ্যে কলম ধরেন।

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাত করতে গেলে বঙ্গবন্ধু তাকে জিজ্ঞেস করেন ৬দফায় ইসলাম বিরোধী কিছু আছে কিনা। তখন মাওলানা জালালাবাদী বলেন, ৬দফার মাধ্যমে আপনি পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির দাবি তুলেছেন এটাতো ইসলামের পরিপন্থী নয়ই বরং সহায়ক। কেননা ইসলাম ন্যায়ের ধর্ম। কাউকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে শোষণ করার পক্ষে ইসলাম নেই। সুতরাং ৬দফা ইসলাম বিরোধী নয়।

এরপর মাওলানা জালালাবাদী বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ও পরামর্শে সিলেটের মাওলানা ওলিউর রহমানকে সভাপতি করে ‘আওয়ামী ওলামা পার্টি’ গঠন করেন। এছাড়াও ‘ইসলামী বিপ্লবী পরিষদ’ গঠন করে তার মাধ্যমে ৬দফার সমর্থনে ‘শরীয়তের দৃষ্টিতে ৬দফা কর্মসূচি’ নামে বই লিখে হাজার হাজার কপি করে তা সর্বসাধারণের মাঝে বিলি করা হয়। ৬ দফা দাবির পক্ষে আলেম ওলামা ও সর্বসাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের জন্য তারা চষে বেড়িয়েছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া।

আজকের বিশ্বস্বীকৃত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের শুরুটাও হয়েছিলো এই মাওলানা জালালাবাদীর কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।

মুক্তিযুদ্ধের সংকটকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সকাল হতো মাওলানার তেলাওয়াতে। রেডিও পাকিস্তান থেকে প্রচারিত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের সমোচিত জবাব দিতেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে বসে।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

এগারো.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: (১০ জুলাই ১৮৮৫ - ১৩ জুলাই ১৯৬৯)
উপমহাদেশে মুসলিম ও বাঙালি জাগরণের পথিকৃৎ৷ বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে ১৬ নম্বরে যার নাম৷ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় মাওলানা ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।

ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম জাগরণ এবং বাঙালির চেতনা বিকাশের অগ্রদূত হিসাবে স্বীকৃত হয়েছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সর্বপ্রথম যুক্তি-তর্ক দিয়ে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে বিবেচিত করার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তাঁর জীবদ্দশায় বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। তাঁকে বলা হতো "চলন্ত এনসাইক্লোপেডিয়া"।

"কলকাতা মাদ্রাসার একটি ইউনিট তখন প্রেসিডেন্সি কলেজের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেখান থেকে এফ.এ. (বর্তমান এইচএসসি সমমান) পাশ করার পর ১৯১০ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তারপর তিনি এম.এ. এবং আইন পড়েন। ১৯২৮ সালে প্যারিসের সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট লাভ করেন," জানান মুহম্মদ তকিউল্লাহ।

ডক্টরেট শেষ করার আগেই তিনি গবেষণার কাজ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপনার কাজ করেন ১৯২১ সাল থেকে। ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বাংলা ও সংস্কৃতের অধ্যাপক ও রিডারের দায়িত্ব পালন করেন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

আল্লামা মাহমুদুল হাসান: (জন্ম: ১৯৫০)
তিনি একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, হানাফি সুন্নি আলেম, শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় লেখক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। বর্তমানে তিনি কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ শিক্ষাবোর্ড আল হাইআতুল উলয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সভাপতি, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ার আচার্য, গুলশান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব, মাসিক আল জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও মজলিসে দাওয়াতুল হক বাংলাদেশের আমীর। তিনি তাফসীরে বুরহানুল কুরআনের রচয়িতা।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এদেশের আলেম সমাজ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে এমনকি এ দেশের স্বাধীনচেতা মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করণে অনেক কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে মাওলানা আব্দুল মতিন চৌধুরী শায়খে ফুলবাড়ি (রহ.) সিলেট, মাওলানা মুহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.), মাওলানা হাবিব উল্লাহ (রহ.) সিলেট, মাওলানা লুৎফুর রহমান (রহ.) শায়খে বর্ণভী, সিলেট, শায়খুল হাদীস মাওলানা কাজী মু‘তাসিম বিল্লাহ (রহ.), শায়খুল হাদীস মরহুম তজম্মুল আলী (রহ.) সিলেট, মাওলানা আবুল হাসান (রহ.) যশোহর, মাওলানা আরিফ রাব্বানী (রহ.) ময়মনসিংহ, মুফতী মোঃ নুরুল্লাহ (রহ.) ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাওলানা শামসুদ্দীন কাসেমী (রহ.) ঢাকা, মাওলানা মোস্তফা আজাদ, ঢাকা প্রমুখ আলেমের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য৷

ভারত উপমহাদেশ পর্ব:
এভাবের গোটা ভারত উপমহাদেশের ইতিহাসে মুসলিম মাওলানা ও স্কলারেদের অবদান বিশেষ করে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, জ্ঞান বিজ্ঞানে উৎকর্ষ সাধন ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অবদান অপরিসীম৷ দেশ ও ধর্মের জন্য তখনকার যেসব মাওলানাদের ভূমিকা ছিল বিশ্ব নন্দিত নীচে তাদের কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরলাম মাত্র৷

বার.
হাজী শরীয়তুল্লাহ: (১৭৮১-১৮৪০)
বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক। তাঁর নামানুসারে শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে। বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার তৎকালীন মাদারীপুর মহকুমাধীন (বর্তমানে জেলা) শ্যামাইল গ্রামের তালুকদার পরিবারে ১৭৮১ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৭৯৯ সালে তিনি মক্কা গমন করেন এবং ১৮১৮ সালে বাংলায় ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি আরবের তৎকালীন ওহাবী আন্দোলনের অনুরূপ ইসলামি সংস্কার আন্দোলন শুরু করেন। ইসলামি পুনরভ্যুদয়ের সমর্থক, একজন সমাজ সংস্কারক এবং একজন জনপ্রিয় কৃষক নেতা হিসেবে তাঁকে চিহ্নিত করা যেতে পারে। এ সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কুশাসন, শোষণ ও অত্যাচারে বাংলার জনগণ অতিষ্ট ছিল। তিনি তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন যা পরবর্তীকালে ফরায়েজী আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়।

হাজী শরীয়তুল্লাহর আন্দোলন সম্পর্কে জেমস টেইলর বলেন, “কুরআনকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করাই ছিল ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্দেশ্য।” একটি চমক দিয়েই ক্ষান্ত হওয়ার লোক ছিলেন না হাজী শরীয়তুল্লাহ। তিনি ধীরে ধীরে একটি স্থায়ী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ার দিকে মনোনিবেশ করলেন। বিখ্যাত ঐতিহাসিক জেমস ওয়াইজের মতে, “শিরক ও বিদআত থেকে স্থানীয় মুসলমানদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে হাজী শরীয়তুল্লাহই পূর্ববঙ্গের ইসলামের প্রথম সংস্কারক ও প্রচারক।” এ থেকেই বোঝা যায় ইসলামের খেদমতে শরীয়তুল্লাহর অবদান কত বেশি।

১৮৩১ সালে বাংলা প্রদেশে আর এক বীর স্বাধীনতাকামী শহীদ হলেন সম্মুখ সমরে। তিনি হলেন শহীদ তিতুমীর। তার পূর্ণনাম সাইয়েদ নিসার আলী তিতুমীর।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

তের.
সৈয়দ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর:
বিবিসি বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জরিপে ১১ নম্বরে আছেন সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর৷

(১৭৮২-১৮৩১) তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের পুরোধা৷ তিনি ওয়াহাবী আন্দোলন এর সাথেও যুক্ত ছিলেন। তিনি অত্যারিত হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ও তার বিখ্যাত বাঁশের কেল্লার জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন৷ ব্রিটিশ সেনাদের সাথে যুদ্ধরত অবস্থায় এই বাঁশের কেল্লাতেই তার মৃত্যু হয়।

তিতুমীরের প্রাথমিক শিক্ষা হয় তাঁর গ্রামের বিদ্যালয়ে। পরবর্তীকালে তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসাতে লেখাপড়া করেন। ১৮ বছর বয়সে তিতুমীর কোরানে হাফেজ হন এবং হাদিস বিষয়ে পাণ্ডিত্য লাভ করেন। একই সাথে তিনি বাংলা, আরবি ও ফার্সি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। ১৮২২ সালে তিতুমীর মক্কায় হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে যান। তিনি সেখানে স্বাধীনতার অন্যতম পথ প্রদর্শক সৈয়দ আহমেদ শহীদের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন৷ সেখান থেকে এসে (১৮২৭) তিতুমীর তাঁর গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকরদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

চৌদ্দ.
মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.): (১৮০০-১৮৭৩)
বাংলাদেশ ও আসামে ইসলামের তবলীগ-প্রচারে বিখ্যাত পীর মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) তাঁর জবান ও কলম দ্বারা যে বলিষ্ঠভাবে জেহাদী ভ‚মিকা পালন করেন, এ দেশে ইসলাম প্রচারের ইতিহাসে তা এক স্বতন্ত্র অধ্যায়রূপে পরিগণিত হয়। তাঁর সমগ্র জীবনের ৭৫ বছরের মধ্যে তিনি ৫৭ বছর ইসলাম প্রচারে লিপ্ত ছিলেন। এই গোটা সময়টাই তিনি শিরক ও বেদাতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে থাকেন এবং অসংখ্য লোক এ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তার রচিত বইয়ের সংখ্যা ৪০-এরও বেশি।

প্রথমে মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) তাঁর নিজের জেলায় ও তার আশপাশের এলাকায় যথা আজমগড়, গাজীপুর, ফয়েজাবাদ ও সুলতানপুরে ইসলাম প্রচার করেন। অতঃপর তিনি বাংলাদেশ ও আসামে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে জৌনপুর থেকে কলকাতায় আসেন। তারপর তিনি বাংলাদেশ ও আসামের প্রায় সর্বত্র প্রচার তৎপরতায় লিপ্ত থাকেন। মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) এমন এক সময়ে প্রচারকার্যে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, যখন বঙ্গ-আসামসহ গোটা হিন্দুস্থানে চলছিল ইসলামের করুণ অবস্থা। বেদাত, কুসংস্কার ও বিধর্মী প্রভাবে পরিপূর্ণ।

এ জন্য আধুনিক যুগের একজন প্রখ্যাত আরব লেখক হজরত মাওলানা কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.)-কে সংস্কার, অসাম্প্রদায়িক, শান্তিপ্রিয় বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘আমিলা আলা তাতহিরিল এতেকাদাতিল ইসলামিয়াহ আলআল হিন্দিয়াহ, মিনাল আদাতিল ও ছানিয়াহ।’

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

পনের.
হুসাইন আহমদ মাদানি: (উর্দু: حسین احمد مدنی‎‎; ৬ অক্টোবর ১৮৭৯ -৫ ডিসেম্বর ১৯৫৭)
তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি পণ্ডিত ও ওলি, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা।মুহাদ্দিস হিসেবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধারে একজন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক, দার্শনিক, সমাজ সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি আওলাদে রাসূল তথা মুহাম্মদের ৩৬ তম বংশধর ছিলেন। তিনি মাহমুদ হাসান দেওবন্দির শিষ্য এবং দেওবন্দ আন্দোলনের একজন আকাবির বা অনুসরণীয় বড় ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের ৫ম সদরুল মুদাররিস বা প্রধান অধ্যাপক এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের ৩য় সভাপতি ছিলেন। তিনি অখণ্ড ভারতের পক্ষে ছিলেন। ইসলাম শাস্ত্রে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ও অবদানের জন্য তাকে শায়খুল ইসলাম উপাধি দ্বারা সম্বোধন করা হয়। ১৯৫৪ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করে।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

ষোল.
সৈয়দ আহমদ বেরলভি (রহঃ): (১৭৮৬-১৮৩১)
ভারতের একজন মুসলিম সংস্কারক এবং "নবী মুহাম্মদের পথ" (তারিকাহ মুহাম্মাদিয়াহ),নামে একটি তরীকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ঊনবিংশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলাসহ সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী এক সুসংগঠিত স্বাধীনতা আন্দোলন ভারতীয় মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল। এ আন্দোলনের প্রাণপুরুষ ছিলেন সৈয়দ আহমদ শহীদ। তার আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা ভারতে একটি অখণ্ড ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। তিনি মুসলমানদের কাছে আমিরুল মোমেনীন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৎকালীন ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অন্ধ্র প্রদেশ থেকে শুরু করে মর্দান পর্যন্ত এ বিশাল অঞ্চলে তিনি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে ইসলামি শাসনব্যবস্থা চালু করেন।

দাওয়াত ও ইসলাহের মাধ্যমে মুজাহিদ সংগ্রহ করে সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ ইংরেজ-বেনিয়াদের জুলুম-নির্যাতন থেকে উপমহাদেশের জনসাধারণকে মুক্তি দিতে সীমান্ত প্রদেশের দিকে আগ্রসর হোন।

সিন্ধু, কান্দাহার ও কাবুল হয়ে সীমান্ত অঞ্চলে তিনি স্বাধীনতার ঘাটি স্থাপন করেন। ১৮২৭ সালের ১০ জানুয়ারি সেখানে তিনি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন। এই সরকারে প্রশাসন, অর্থ, সমর ও বিচার ইত্যাদি পৃথক পৃথক বিভাগ গঠন করেন। সায়্যিদ আহমদ অস্থায়ী সরকারের আমীর মনোনীত হোন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

সতের.
মৌলানা উবাইদুল্লাহ সিন্ধি: (১০ মার্চ ১৮৭২- ২২ আগস্ট ১৯৪৪)
তিনি ছিলেন ভারতের একজন জাতীয়তাবাদী নেতা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনৈতিক কর্মী। নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক গুরুও ছিলেন এই সিন্ধি৷

উবাইদুল্লাহ সিন্ধি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মাওলানা মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অক্ষশক্তির সাহায্যে ভারতে একটি প্যান ইসলামি আন্দোলনের জন্য ভারত ত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে অন্যতম। এই ঘটনা পরবর্তীতে রেশমি রুমাল আন্দোলন নামে পরিচিতি পায়।

রেশমি রুমাল আন্দোলন (তেহরিক-ই-রেশমি রুমাল) বলতে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে দেওবন্দি নেতাদের কর্তৃক সংগঠিত আন্দোলনকে বোঝায়। এতে উসমানীয় সাম্রাজ্য, জার্মান সাম্রাজ্য ও আফগানিস্তানের সহায়তা নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। আফগানিস্তানে দেওবন্দি নেতা উবাইদুল্লাহ সিন্ধির কাছ থেকে পারস্যে অন্য আরেকজন নেতা মাহমুদুল হাসানের কাছে পাঠানো চিঠি উদ্ধারের মাধ্যমে পাঞ্জাব সিআইডি পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। চিঠিটি রেশমের কাপড়ের উপর লেখা হয়েছিল বলে এই নামে এর নামকরণ করা হয়।

কর্মজীবনের প্রথমদিকে তিনি প্যান ইসলামি চিন্তাবিদ ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি প্যান ইসলামি চিন্তা থেকে সরে আসেন। দেওবন্দি উলামাদের নেতৃত্বে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। উবাইদুল্লাহ সিন্ধি ১৯৪৪ সালের ২২ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

আঠার.
মাওলানা মাহমুদুল হাসান (শায়খুল হিন্দ): (১৮৫১-১৯২০)
তিনি মাহমুদ হাসান বলেও পরিচিত৷ একজন দেওবন্দী সুন্নি আলেম। ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার প্রচেষ্টা ও পান্ডিত্যের জন্য কেন্দ্রীয় খিলাফত কমিটি তাকে "শাইখুল হিন্দ" উপাধি তে ভূষিত করে।

মাওলানা মাহমুদ হাসান ছিলেন বিদগ্ধ আলেমে দ্বীন, স্বাধীনতার এক মহান সেনানী এবং রেশমী রুমাল আন্দোলনের পুরোধা।

ভারতের স্বাধীনতায় মাওলানার অবদান এতো বিশাল যে তার আলোচনা ছাড়া স্বাধীনতার ইতিহাস অপূর্ণ থেকে যাবে। মোহনদাস করোম চাঁদ গান্ধীকে তিনিই সর্বপ্রথম মহাত্মা‘ উপাধি প্রদান করেন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

উনিশ.
মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি: (১৮৩২-১৮৮০)
মাওলানা কাসেম নানুতবী ছিলেন ইংরেজ আগ্রাসন প্রতিরোধের এক অকুতোভয় সিপাহশালার৷ তিনি ভারত উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত মুসলিম পণ্ডিতও ছিলেন৷ ইংরেজরা ভারতবর্ষ দখলে নেওয়ার পর যখন মুসলমানের অস্তিত্ব, দ্বীন ধর্ম ইংরেজদের ভয়ানক নিশানায় নিপতিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে শামেলির ময়দানের অকুতোভয় বীর সেনানীর বেশে এগিয়ে আসেন নুনুতুবি, এবং মুসলমানের দ্বীন ধর্ম হেফাজতের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন।

দ্বীনি তালিম ও তরবিয়াতের মাধ্যমে তিনি এমন বিপ্লব সৃষ্টি করেন যার উদাহরণ বিগত কয়েক শতাব্দীতে পাওয়া যায় না। তিনি সমগ্র বিশ্বে দারুল উলূম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে প্রসিদ্ধ।

মাওলানা কাসেম নানুতবী কয়েকটি শহরে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন,দেওবন্দে দারুল উলূম,মুরাদাবাদে মাদরাসায়ে কাসেমিয়া শাহী,গোলাহাটিতে মাদরাসা মানবাউল উলূম এবং আমরোহাতে মাদরাসা ও জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে আজ পর্যন্ত ইলমে দ্বীনের আলো ছড়াচ্ছে।

মাওলানা কাসেম নানুতবীর জীবনে অন্যতম অবদান দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা। দারুল উলূম দেওবন্দ শুধু একটি মাদরাসাই ছিলোনা বরং ছিলো একটি মিশন,একটি বিপ্লব ও একটি আন্দোলন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

বিশ.
মাওলানা আশরাফ আলী থানভী: (১৯ আগস্ট ১৮৬৩-৪জুলাই ৪ ১৯৪৫;)
তিনি ছিলেন একজন দেওবন্দী আলেম, সমাজ সংস্কারক, ইসলামি গবেষক এবং পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তিনি ভারতের থানাভবনের নিবাসী হওয়ার কারণে তার নামের শেষে "থানভী" যোগ করা হয়।[৪] ভারত উপমহাদেশ এবং এর বাইরেরও অসংখ্য মানুষ তার কাছ থেকে আত্মশুদ্ধি এবং তাসাওউফের শিক্ষা গ্রহণ করার কারণে তিনি "হাকীমুল উম্মত" (উম্মাহর আত্মিক চিকিৎসক) উপাধিতে পরিচিত। মুসলমানদের মাঝে সুন্নতের জ্ঞান প্রচারের জন্য তিনি দাওয়াতুল হক নামক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

একুশ.
আবুল কাসেম নোমানী: (জন্ম: ১৯৪৭)
একজন ভারতীয় সুন্নি মুসলিম পণ্ডিত এবং দারুল উলূম দেওবন্দের বর্তমান আচার্য। সম্প্রতি জরিপে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিমের মধ্যে স্থান পেয়েছেন৷

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

বাইশ.
মাওলানা রশিদ আহমেদ গাঙ্গুহী:
তিনি ছিলেন ভারতীয় ইসলামি পণ্ডিত ও সুফি। তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসা কেন্দ্রিক দেওবন্দি ভাবধারার ইসলামি আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবির মৃত্যুর পর তিনি দেওবন্দ মাদ্রাসার প্রধান নিযুক্ত হন। রশিদ আহমেদ গাঙ্গোহি ও মুহাম্মদ কাসেম নানুতুবি দুজনেই দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা এবং হাজি ইমদাদউল্লাহ মুহাজির মাক্কির কাছে সুফিবাদ শিক্ষালাভ করেন।৷ লিখেছেন। এর মধ্যে ফতোয়া রাশিদিয়া ও হিদায়াতুশ শিয়া অন্যতম। তার অনুসারীরা তাকে একজন আলেম, হাকিম এবং শরিয়া আইন ও সুফি তরিকার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় হিসেবে দেখে থাকে৷

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

তেইশ.
ফকির মজনু শাহ বোরহান: (মৃত্যু- ১৭৮৭)
তিনি ছিলেন বর্তমান ভারতের অন্তর্গত উত্তর প্রদেশের একজন ফকির বা ধর্মীয় সুফি সাধু। তিনি ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। কিছু পন্ডিতের মতে এই বিদ্রোহ ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম যুদ্ধের অন্যতম যোদ্ধা৷ তিনি ও তার দল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অনেক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সর্বশেষ মুখোমুখি সশস্ত্র যুদ্ধে ১৭৮৭ সালে মজনু শাহ্ নিহত হন।

তিনিও কিন্তু একজন ধর্মীয় আলেম ছিলেন৷

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

চব্বিশ.
ফকির বালকী শাহ:
পিরোজপুরে এক কৃষক পরিবারে ধর্মগুরু বালকি শাহের জন্ম। বলাকী শাহ একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন৷ ১৭৮৭ সালে দুর্ভিক্ষ পীড়িত কৃষকদের নিয়ে তিনি একটি প্রতিরোধ বাহিনী গঠন করেন। তার নেতৃত্বে ১৭৯২-এ বাকেরগঞ্জ জেলার প্রজারা এবং মির্জা আগা মোহাম্মদ রেজা বেগ ইংরেজ বণিক ও জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। (সুপ্রকাশ রায়: ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, পৃ ১০৪-১০৮)। বলাকী শাহ এই বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন বলে এই বিদ্রোহকে ‘বলাকী শাহের বিদ্রোহ’ বলা হয়ে থাকে। তিনিও কিন্তু একজন ধর্মীয় অালেম ছিলেন৷

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

পঁচিশ.
মাওলানা গাজী ইমামুদ্দীন বাঙ্গালী রাহ: (অমর বালাকোট সংগ্রামী)
তৎকালীন পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে।ব্রিটিশকবলিত বাংলা-ভারত উপমহাদেশজুড়ে পরিচালিত স্বাধীনতা সংগ্রাম বা জিহাদ আন্দোলনের তিনি ছিলেন প্রথম সারির একজন কান্ডারি। ১৮২০ সাল থেকে ১৮৩১ সাল পর্যন্ত তিনি সে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওতপ্রোতভাবে; নিবেদন, সমর্পণ, সংগঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে। আজাদির সংগ্রামে নিবেদিত এই মহান পুরুষের জন্মভিটা ছিল তৎকালীন পূর্ববঙ্গের নোয়াখালীর হাজীপুরে। গবেষক-আলেম গোলাম রসূল মেহেরের গ্রন্থে লেখা হয়েছে, সুধারাম-হাজীপুর। আর ইতিহাস বিশ্লেষক চিন্তাবিদ, দাঈ সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে, হাজীপুর-বাংলাদেশ। তিনি ছিলেন বিপ্লব-সাধনা ও আধ্যাত্মিকতার ইমাম, আন্দোলনের প্রাণপুরুষ সাইয়েদ আহমদ শহীদ (রহ.)-এর বিশিষ্ট শিষ্য ও খলীফা। এই আন্দোলন চলাকালে পূর্ববঙ্গ থেকে বিপ্লবী আলেম রিক্রুট এবং পূর্ববঙ্গে সে আন্দোলনের দ্যুতি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ সবচেয়ে বেশি করেছেন তিনিই।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

ছাব্বিশ.
মাওলানা শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি (রহ.):
ভারত উপমহাদেশের কালজয়ী মুসলিম দার্শনিক শাহ ওয়ালিউল্লাহ (১৭০৩–১৭৬২ খ্রিষ্টাব্দ/ ১১১৪–১১৭৬ হিজরি) ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন ইসলামি পণ্ডিত, সংস্কারক এবং আধুনিক ইসলামি চিন্তার একজন প্রতিষ্ঠাতা৷

বণিকবেশি ইংরেজ, ডাচ, ওলন্দাজ, স্পেন প্রভৃতি সাম্রাজ্যবাদীরা ভারতবর্ষের রাজন্যবর্গের পরস্পর কলহ ও দুর্বলতার সুযোগে প্রথমে বাংলা,বিহার,উড়িষ্যা দখল করে নেয়। পরবর্তীতে মুঘল সম্রাটদের দুর্বলতা ও অযোগ্য নেতৃত্বের ফলে ইংরেজ-বেনিয়াগোষ্ঠী দিল্লির মসনদ দখলে নিয়ে নেয়।

ঔপনিবেশিক উপমহাদেশে যে সর্বগ্রাসী নৈরাজ্য ও নৈরাশ্য দেখা দেয়, তা থেকে মুসলিম সমাজকে তথা গোটা ভারতবর্ষকে যারা মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি (রহ.) তাঁদের অন্যতম। তিনি একই সঙ্গে মুসলিম দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, চিন্তানায়ক ও সমাজসংস্কারক ছিলেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ (রহ.) একদিকে যেমন মুসলিম সমাজকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনৈসলামিক অনাচার থেকে রক্ষা করেছিলেন, অন্যদিকে মুসলমানের চিন্তার অসারতা দূর করেছিলেন। তাঁর বিপ্লবী চিন্তাধারা ও পদক্ষেপের ফলে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে ভারতবর্ষ রাজনৈতিক মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

সাতাশ.
আল মুহাদ্দিস শাহ আবদুল আজিজ দেহলভী: (১১অক্টোবর ১৭৪৬- ৫জুন, ১৮২৪)
তিনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের বিজ্ঞ পণ্ডিত, এবং উনবিংশ শতাব্দীর একজন মুজাদ্দিদ বলে বিবেচিত হন। তিনি তার পিতা শাহ ওয়ালীউল্লাহ এর যোগ্য উত্তরশুরি ছিলেন৷ ব্রিটিশ শাসিত হিন্দুস্তানকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির হিংস্র থাবা হতে মুক্ত করার জন্য হযরত শাহ আব্দুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী র. একটি বিপ্লবী ফতোয়া প্রদান করেন। তিনি বলিষ্ঠ কন্ঠে ভারতবর্ষকে ‘দারুল হরব’ তথা শত্রু অধিকৃত দেশ বলে ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার মাধ্যমে তিনি প্রকাশ্য বিদ্রোহের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দেন৷

এ ফতোয়া কেবল মুসলমানদের মাঝেই নবজাগরণ সৃষ্টি করেনি, অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। বরং ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারতব্যাপি বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল৷ ফলে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে একটি নতুন গতি দেখা দেয়। সারা ভারতবর্ষের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে ফুঁসে ওঠে। এ আন্দোলনকে অনেকেই ‘ওহাবি আন্দোলন’ বলে অভিহিত করেন।

সংগ্রাম ও আন্দোলনের উদ্যোক্তা, সিপাহসালার আর কর্ণধাররা ছিলেন জগদ্বিখ্যাত আলেম। ইংরেজদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন অসংখ্য আলেম-ওলামা। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে অনেককেই। ভারতবর্ষের এসব আলেমের জিহাদী আন্দোলনের ফলে ইংরেজরা এ দেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আজ সেই স্বাধীনতার ধারক বাহক আলেমগণের কোনো নাম নেই। কোথাও নেই তাঁদের অবদানের উল্লেখ। বরং সুকৌশলে তাঁদের অবদান ও সংগ্রামী নানা অধ্যায়কে পাথরচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে।

অথচ কেউ কেউ মাওলানাদের অবদান খুঁজে পায় না!

হাজারোদের মধ্যে সামান্য ক'জনের নাম দিলাম যাদের অবদান বিশ্ববাসী তাদের বিশ্বকোষে বয়ে বেড়াচ্ছে৷ সেখানে অনেক খুঁজলাম কিন্তু অাপনাকে পেলাম না৷ ৫০০ বছরের মধ্যে অাপনার অবদানটাই তো সবচেয়ে সেরা মনে হয়! তবে ইতিহাস কেন অাপন নামকে তার পাতায় স্থান দিল না! একবার ভেবে দেখবেন!

আবার আসছি বাংলাদেশ পর্বে৷ আরো কিছু ছোট খাটো আলেম উলামাদের নাম দিলাম যাদের অবদান গুলোও বিশ্বকোষ অস্বীকার করতে পারেনি বলে তার পাতায় ধরে রেখেছে চিরদিনের জন্য৷

আটাশ.
আতাহার আলি: (১৮৯১ - ৬ অক্টোবর ১৯৭৬)
তিনি ছিলেন একজন বাঙালি ইসলামি চিন্তাবিদ, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য। নেজামে ইসলাম পার্টির সাবেক সভাপতি। তার নেতৃত্বে নেজামে ইসলাম ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদে তিনিসহ ৪টি জাতীয় পরিষদে ৩৬ আসন লাভ করে। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন এবং আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন ছাড়াও তিনি প্রতিটি জাতীয় সংগ্রামে অংশ গ্রহণ করেন।

উনত্রিশ.
মুহাম্মদ ফয়েজুল্লাহ: (১৮৯২-১৯৭৬)
তিনি বাংলাদেশের দেওবন্দী বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি আল জামায়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলামের প্রধান মুফতি (মুফতিয়ে আজম) ছিলেন। মুফতি ফয়জুল্লাহ ''হামিউস সুন্নাহ মেখল মাদ্রাসা 'র প্রতিষ্ঠাতা।

ত্রিশ.
শাহ আবদুল ওয়াহহাব: (১৮৯৪- ২জুন ১৯৮২)
তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি দারুল উলুম হাটহাজারীর ২য় মহাপরিচালক, জমিয়ত উলামায়ে ইসলামের সহ-সভাপতি এবং ২৩ বছর চট্টগ্রাম কোর্টে জুরির হাকিম ছিলেন। অনৈসলামিক মতবাদের প্রতিরোধ এবং ইসলামি মতবাদের প্রচার প্রসারে তিনি অসংখ্য মাদ্রাসা, মসজিদ, খানকাহ, পত্রিকা, সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং সমসাময়িক যুগে অভিভাবকত্বের ভূমিকা পালন করে গেছেন। তাকে হাটহাজারী মাদ্রাসার দ্বিতীয় স্থপতি বলা হয়। তিনি বঙ্গ অঞ্চলে আশরাফ আলী থানভীর প্রধান শিষ্য ছিলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে তাবলিগী আন্দোলনের গােড়াপত্তন, তাবলিগ জামায়াতের পৃষ্ঠপােষকতা ও প্রচার-প্রসার, বিশ্ব ইজতেমা, বেফাক প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব প্রদান, বিধবা বিয়ে, নারী শিক্ষা, জাতীয় ঐক্য, বিশ্বমুসলিম ভ্রাতৃত্ববােধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সংরক্ষণ লালন বিকাশ ইত্যাদিসহ প্রায় সকল ক্ষেত্রে তার অবদান ব্যাপক।

একত্রিশ.
মোহাম্মদ উল্লাহ: (১৮৯৫-১৯৮৭)
যিনি হাফেজ্জী হুজুর নামে প্রসিদ্ধ ও পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরমধ্যে ১৯৮১ সালের নির্বাচনে ১.৭৯% ভোট পেয়ে তৃতীয় এবং ১৯৮৬ সালে ৫.৬৯% ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন।

বত্রিশ.
শামসুল হক ফরিদপুরী:
যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি চিন্তাবিদ, প্রখ্যাত আলেম, সমাজ-সংস্কারক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি লালবাগ জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া কওমি মাদ্রাসা সহ গওহরডাঙ্গা কওমি মাদ্রাসা, ফরিদাবাদ কওমি মাদ্রাসা এবং বড় কাটারা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সক্রিয় নেতা।

তেত্রিশ.
হারুন বাবুনগরী: (১৯০২- ১৯৮৬)
যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, হানাফি সুন্নি আলেম, সুফি সাধক এবং বাংলাদেশে দেওবন্দ আন্দোলনের প্রচারকদের অন্যতম। তিনি আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরের প্রতিষ্ঠাতা এবং ১ম আচার্য। তিনি “বুযুর্গ সাহেব” নামেই অধিক পরিচিত ছিলেন।

চৌত্রিশ.
আজিজুল হক: (১৯০৩- ১৯৬১)
যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী ইসলামি পণ্ডিত, হানাফি সুন্নি আলেম, শিক্ষাবিদ, সুফি সাধক এবং সমাজ সংস্কারক। তিনি ছিলেন আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার প্রতিষ্ঠাতা এবং ১ম আচার্য। তাকে কুতুবুল আলম / কুতুবে যামান মনে করা হয়।

পঁয়ত্রিশ.
ছিদ্দিক আহমদ: (১৯০৩- ১৯মে ১৯৮৭)
তিনি একজন বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, বাগ্মী, বিতার্কিক ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি ও আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের মহাসচিব ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলা আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অসাধারণ বাগ্মীতার কারণে তিনি খতিবে আজম বা বড় বক্তা উপাধি পেয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী তাকে ২২ মাস বিনাবিচারে কারাগারে বন্দী করা হয়েছিল। কারা অভ্যন্তরে কোনোরূপ সহায়ক গ্রন্থের সাহায্য ছাড়াই তিনি ৮ খণ্ডে শানে নবুয়ত রচনা করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে স্বাধীন উত্তর ইসলামি রাজনীতির সূচনাকারী ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

ছত্রিশ.
হাজী মুহাম্মদ ইউনুস: (১৯০৬- ১৪ফেব্রুয়ারি ১৯৯২)
যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, দায়ী, সমাজসেবক, দানশীল ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার ২য় মহাপরিচালক ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি বিশ্ব মুসলিম লীগের মসজিদ কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন। তিনি প্রায় ১৫০০ মসজিদ-মাদ্রাসা নির্মাণ ও সংস্কার করেছিলেন। মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম তাকে ‘শায়খুল আরব ওয়াল আজম’ (আরব ও অনারবদের অভিভাবক) উপাধিতে ভূষিত করেন। অত্যধিক বার হজ্জ করার কারণে তিনি ‘হাজী সাহেব’ নামেই সমাধিক পরিচিত ছিলেন। এছাড়াও তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সকল মাদ্রাসার পৃষ্ঠপোষক এবং কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংস্থার সভাপতি ছিলেন।

সাঁইত্রিশ.
শাহ সুলতান আহমদ নানুপুরী: (২৬জুন ১৯১৪- ১৬আগস্ট ১৯৯৭) (নানুপুরী হুজুর নামে সমাধিক পরিচিত)
তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুরের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি পটিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আজিজুল হকের শীর্ষস্থানীয় খলিফাদের একজন এবং তার শিষ্যদের মধ্যে জমির উদ্দিন নানুপুরী অন্যতম। তিনি এবং তার শিষ্যরা দেশব্যাপী ব্যাপক ধর্মীয় সংস্কার করেছেন এবং জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুল হুদা সহ কয়েকশত মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি প্রচলিত সুফিবাদের পরিবর্তে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক সুফিবাদ চর্চায় মনোনিবেশ করেছিলেন এবং শিরক ও বিদআতের বিরুদ্ধে কঠোর ছিলেন। তার অনুসারীদের কাছে তিনি ‘শায়খুল আরব ওয়াল আজম’, ‘ইমামুল আরেফিন’, ‘সুলতানুল আরেফিন’, ‘কুতুবে আলম’, ‘রাহবারে তরীকত’, ‘ওলিকূল শিরোমণি’ ইত্যাদি নামে পরিচিত।

আটত্রিশ.
শাহ মুহাম্মদ ইসহাক আল গাজী: (১৯১৭- ২০০৬)
তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, হানাফি সুন্নি আলেম, আরবি কবি, ধর্মীয় লেখক এবং সমাজ সংস্কারক। তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার শায়খুল হাদিস ছিলেন। তিনি হারুন ইসলামাবাদীর অগ্রজ।

উনচল্লিশ.
বেলায়েত হুসাইন: (১৯১০- ২০১৭)

তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত, হানাফি সুন্নি আলেম, কারী, শিক্ষাবিদ এবং গবেষক। তিনি নূরানী শিক্ষা পদ্ধতির আবিষ্কারক এবং নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি কয়েকটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছেন।

চল্লিশ.
আজিজুল হক: (১৯১৯- ৮আগস্ট ২০১২)
তিনি হলেন একজন মুহাদ্দিস, ইসলামী ঐক্য জোটের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বাংলাদেশের একজন রাজনৈতিক ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া'র উপাচার্য ছিলেন। হাদিসগ্রন্থ বুখারি শরীফ পূর্ণাঙ্গভাবে বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম তিনি অনুবাদ করেন। হাদীসশাস্ত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্যের জন্য তাকে ‘শায়খুল হাদীস’ উপাধি দেওয়া হয়।

একচল্লিশ.
আবদুর রহমান: (مفتي عبد الرحمن) (১৯২০-২০১৫)
তিনি মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ আলেমফকিহুল মিলাত নামেও পরিচিত। বাংলাদেশের দেওবন্দী বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি ১৯২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলেন তিনি।

বিয়াল্লিশ.
শাহ আহমদ শফী: (১৯১৬- ১৮সেপ্টেম্বর ২০২০)
যিনি আল্লামা শাহ আহমদ শফী নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন বাংলাদেশি ইসলামি ব্যক্তিত্ব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আমীর ছিলেন। তিনি একইসাথে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও দারুল উলুম মুঈনুল ইসলামের, হাটহাজারীর মহাপরিচালক ছিলেন

তেতাল্লিশ.
নূর উদ্দিন আহমদ গহরপুরী: (১৯২৪- ২০০৫)
তিনি উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলীম শায়খুল হাদিস। ১৯৯৬ সালে তিনি দেশের সর্ববৃহৎ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং মৃত্যু অবধি তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পাকিস্তান আমলে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হিসেবে ১৯৭০ এর জাতীয় নির্বাচনে খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে অংশ গ্রহণ করেন। সিলেটের জামেয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া গহরপুরের মোহতামিম (উপাচার্য) ও শায়খুল হাদিসের দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি।

চুয়াল্লিশ.
উবায়দুল হক:

যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী মুহাদ্দিস, মুফাসসির ও শিক্ষাবীদ। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের তৃতীয় খতীব (১৯৮৪-২০০৭), বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং বহু উচ্চ মানসম্পন্ন ইসলামী গ্রন্থাবলীর রচয়িতা ও সংকলক৷

পঁয়তাল্লিশ.
কাজী মুতাসিম বিল্লাহ: (১৫জুন ১৯৩৩- ১৬জুলাই ২০১৩)

তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, লেখক, সমাজ সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব। তিনি জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকার মহাপরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি হুসাইন আহমদ মাদানির শিষ্য ও তার চিন্তাধারার একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। মাদানি তাকে রসিকতা করে ‘চতুর্দশ শতকের মুজতাহিদ’ সম্বোধন করতেন। ১৯৬৯ সালে তিনি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও পেশাগত জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন। বাংলা সাহিত্য চর্চায় তিনি বাংলাদেশের আলেম সমাজের পথিকৃৎ। সর্বপ্রথম তিনি কওমি মাদ্রাসায় বাংলা ভাষায় পাঠদানের পদ্ধতি চালু করেন এবং সাহিত্য সভা, বাংলা সাময়িকী, বক্তৃতা মজলিস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

পরিশেষে বলবো,
মুক্তিযুদ্ধের কথা বলব অথচ ওলামায়ে কেরামের কথা বলব না, তা হয় না। অবশ্যই স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে আলেম সমাজের অবদানের বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে সংরক্ষিত হতে হবে। তা না হলে ইতিহাসটি এক মহান দায় চিরদিন আমাদের কাঁদে থেকে যাবে।

যুদ্ধকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূত আগা শাহীর সাক্ষাৎকারটিই অালেম সমাজের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের বড় দলিল৷

আগা শাহীর সাক্ষাৎকারটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসির মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। এই সাক্ষাতকারে সাংবাদিক বব ক্লার্কের এক প্রশ্ন থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, আলেম সমাজ মুক্তিযুদ্ধে জনগণের পাশে ছিলেন এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। আগা শাহী যখন পূর্বপাকিস্তানি বাহিনীর নির্বিচারে গণহত্যা,লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন, তখন তার প্রতি বব ক্লার্কের প্রশ্ন ছিল,জনাব রাষ্ট্রদূত, গণহত্যার অভিযোগ কিন্তু নানা সূত্র থেকে এসে পৌঁছেছে। এসব সূত্র হচ্ছে বিদেশী কূটনীতিবিদ, ধর্মপ্রচারক ও সাংবাদিক। এরা কিন্তু আপনাদের সশস্ত্র ব্যবস্থা গ্রহণের আগে থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল। পাকিস্তান থেকে সীমান্তের ওপারে যেসব শরণার্থী চলে গেছে, তাদের বক্তব্যের সঙ্গে এদের গণহত্যার বিবৃতির মিল থাকাটা কি অর্থবহ নয়?

আলেম সমাজ যে শুধু যুদ্ধের সময় সহযোগিতা করেছেন তা নয়, বরং ১৯৪৭ সালে ইংরেজরা ভারত-পাকিস্তান ভাগ করে চলে যাওয়ার সময় যখন নেতারা একটা স্বাধীন রাষ্ট্রপ্রাপ্তির সাফল্যে সন্তুষ্ট তখন একজন আলেম পূর্ব-পশ্চিমের এ সংযুক্ত বিভাগকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি প্রকাশ্যে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করতে থাকেন এবং এ ভুখন্ডের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবী তোলেন। তিনিও ছিলেন একজন মাওলানা।

যার নাম- "মাওলানা শামছুল হুদা পাঁচবাগী৷"

সুতরাং আলেম ওলামাদের অবদান ডশজানতে হলে তাদের নামে ক্রমাগত বিষেদাগার না করে ইতিহাস নিয়ে স্টাডি করুন৷ নতুবা দেখবেন আলেম বিদ্বেষী হতে হতে একদিন আপদমস্তক ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে গেছেন৷ ইতিহাস জানতে নীচের বইগুলো সাজেশন করে গেলাম৷ পড়ে দেখবেন ধারণা পাল্টে যাবে৷ এই পোস্টটা আপনার প্রতি কোন ক্ষোভ থেকে নয়, বরং ভালোবাসা থেকেই!

ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস বিষয়ক ৫৫টি বাংলা বইয়ের তালিকা৷ আপনাদের খেদতমে পেশ করলাম৷

০১. আজাদী আন্দোলনে আলেম সমাজের সংগ্রামী ভূমিকা

০২. আযাদী আন্দোলন ১৮৫৭

০৩. আরাকানের মুসলমানদের ইতিহাস

০৪. আলেম মুক্তিযোদ্ধের খোঁজে (একাত্তরের চেপে রাখা ইতিহাস)

০৫. আলী র. এর একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি

০৬. ইতিহাস কথা কয়

০৭. ইতিহাসের আলোকে দেশ বিভাগ ও কায়েদে ০৮. আযম জিন্নাহ

০৯. ইতিহাসের ইতিহাস

১০. ইসলাম প্রচারের ইতিহাস

১১. এ এক অন্য ইতিহাস

১২. উপমহাদেশের অতীত রাজনীতির খণ্ড চিত্র

১৩. উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুসলমান

১৪. কমিউনিস্ট শাসনে ইসলাম

১৫. কাশ্মীর ইতিহাস ও রাজনীতি

১৬. কোম্পানি আমলে ঢাকা

১৭. চেতনার বালাকোট

১৮. চেপে রাখা ইতিহাস

১৯. জাগ্রত কাশ্মীর

২০. তবকাত ই আকবরী

২১. তবকাত ই নাসিরী

২২. তবাকাতে আকবরী ১

২৩. তবাকাতে আকবরী ২

২৪. তাজকিয়াতুল ওয়াকিয়াত

২৫. তারিখে ফাইরুজশাহী

২৬. দি ইন্ডিয়ান মুসলিম

২৭. দিগ্বিজয়ী তৈমুর

২৮. দেওবন্দ আন্দোলন ইতিহাস ঐতিহ্য অবদান

২৯. পলাশী যুদ্ধোত্তর আদাযী সংগ্রামের পাদপীঠ

৩০. প্রথম ভারতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ

৩১. ফরাসী বিপ্লব

৩২. বজ্রকলম

৩৩. বদর থেকে বালাকোট

৩৪. বরিশালে ইসলাম

৩৫. বাজেয়াপ্ত ইতিহাস

৩৬. বাংলাদেশে ইসলামের আগমন

৩৭. বাংলার ইতিহাস মোগল আমল

৩৮. বাংলার ইতিহাস মুসলিম বিজয় থেকে সিপাহী বিপ্লব পর্যন্ত

৩৯. বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস

৪০. বিশ্ব সভ্যতায় মুসলিম অবদান

৪১. ভারতবর্ষের ইতিহাস

৪২. ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান

৪৩. ভারতে নির্মম গণহত্যা

৪৪. ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাস

৪৫. মধ্যযুগের ভারতীয় শহর

৪৬. মহামতি আকবর

৪৭. মুসলমানদের উত্থান ও পতন

৪৮. মোগল যুগের বিচার

৪৯. মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস

৫০. রাজশাহীতে ইসলাম

৫১. রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস

৫২. শহীদ তিতুমীর

৫৩. সম্রাট আওরঙ্গজেবের ভিতর-বাহির

৫৪. সিপাহী যুদ্ধের ট্রাজেডী

৫৫. সুলতানী আমলে মুসলিম স্থাপত্যের বিকাশ
হারিয়ে যাওয়া হায়দারাবাদ৷

আসুন নিজে বই পড়ি। অন্যকে বই পড়তে উৎসাহিত করি। ইতিহাস জানি ও জানাই এবং ইতিহাসের চর্চা করি৷

রচনাকাল: ১৬-০৪-২০২১ইং৷
দোহা, কাতার৷

(তথ্যসূত্র:- উইকপিডিয়া ও সংবাদপত্র৷)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ